বাংলাদেশ কিভাবে মুসলিম দেশে পরিণত হলো?

How did bangladesh become muslim (photo coppyright: geotalebangla.com)

বিশাল জনসংখ্যার ঘনত্ত্বের ব্যাপারটিকে বাদ দিলেও বাংলাদেশের জনসংখ্যার সবচেয়ে বিস্ময়কর যে তথ্যটি রয়েছে  সেটি হচ্ছে, দেশটির অধিকাংশ মানুষই ইসলাম ধর্মের অনুসারী। বিস্ময়কর বললাম এই জন্যেই যে, খেয়াল করে দেখবেন, এর আশেপাশের কোন দেশই ইসলামপ্রধান নয়। যেখানে বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মানুষই মুসলিম। প্রায় ১৪ কোটি মুসলিম জনসংখ্যা নিয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম মুসলিম জন অধ্যুষিত দেশে পরিণত হয়েছে দেশটি। একইভাবে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ অংশে ইসলাম ধর্মের উপস্থিতিও লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বহু শতাব্দী ধরে বিভিন্ন রাজবংশ এবং সাম্রাজ্যের সফল উপনিবেশের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম দক্ষিণ এশিয়ায় ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে। তারপরেও পাকিস্তান ছাড়া অন্যান্য অঞ্চলগুলিতে যেমন- বর্তমানের নেপাল, ভুটান, মায়ানমার এবং ভারতের অনেক অঞ্চলগুলোতেই ইসলাম ধর্ম বাংলাদেশের মতো এতোটা গভীর ছাপ রেখে যায় নি। 

কিন্তু কেন এবং কিভাবে ইসলাম বাংলাদেশেরই প্রধান ধর্ম হয়ে উঠল?

কেন এবং কিভাবে ইসলাম বাংলাদেশের প্রধান ধর্ম হয়ে উঠল? এর উত্তরের জন্য আমরা অনুসন্ধান করবো, ইসলাম কিভাবে বাংলাদেশে প্রথমে আধিপত্য অর্জন করেছিল। 

বাংলাদেশে অবস্থিত বেঙ্গল ডেল্টা বা গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ অঞ্চলে আরব বণিকদের বানিজ্যের পথ ছিল এ অঞ্চলে মুসলিমদের সূচনার প্রথম লক্ষণগুলির একটি। উল্লেখ্য যে, এখানে বেঙ্গল ডেল্টা বা গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ বলতে বর্তমানের বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের অঞ্চল্গুলোকে বোঝায়।

আরব বনিকদের মধ্যে খুব বেশি ধর্মপ্রচারক না থাকলেও মানচিত্রের দক্ষিণ-পূর্ব দিকের অঞ্চলগুলোতে ইসলাম ধর্ম স্থাপনে এই ব্যবসায়ীদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।  এই ব্যবসায়ীরাই ছিলেন বাংলায় আসা প্রথম মুসলিম। প্রথমে বাংলার দক্ষিণ দিকের অঞ্চলগুলিতে তাদের সম্প্রদায়গুলো বানিজ্যকুঠির স্থাপন করতে শুরু করে এবং তাদের বাংলা বিজয়ের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাংলা অঞ্চলে ইসলামের আবির্ভাব ঘটে। 

শুরু থেকেই, মুসলিম বিজয়ীরা ইসলামের দ্রুত বর্ধনশীলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। যার ফলে ইসলামকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আফ্রিকার উত্তর অংশ এবং সেখান থেকে সিসিলি ও আইবেরিয়ান দীপপুঞ্জ পর্যন্ত পৌছাতে সাহায্য করে। পশ্চিম ও মধ্য এশিয়া ও আফ্রিকায় মুসলিমদের এতো বিজয় স্বত্বেও বহু শতাব্দী ধরে তারা ভারতীয় উপমহাদেশে সফলভাবে প্রবেশ করতে পারেনি। আসলে, ইসলাম ধর্ম বিশ্বাস এ অঞ্চলগুলোতে পৌছাতে সময় নেয় প্রায় ৬০০ বছরেরও বেশি সময়। 

দশম শতকের দিকে সামানি সাম্রাজ্যের তুর্কি দাস সেনাপতি বা মামলুক আল্প তেগিনের মাধ্যমে ভারতবর্ষে সর্বপ্রথম মুসলিম বিজয়ের শুরু হয়েছিল। সামানি সাম্রাজ্য ছিল পারস্য অঞ্চলের বিশাল একটি অংশ নিয়ে বিস্তৃত। যদিও দাস সেনাপতিদের মামলুক বলা হতো, তবুও মুসলিম সংস্কৃতিতে দেশ জয়ের জন্য তারা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ছিলেন। দাস হওয়ার অর্থ এই নয় যে, তারা নিম্ন শ্রেণীর মানুষদের মতো জীবনযাপন করতেন। মামলুকদের এরকম অনেক উদাহরণ আছে যে, তারা তাদের জীবনের বিভিন্ন সময়ে সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রচুর ক্ষমতাধর হয়েছিলেন। যেমনটা হয়েছিল আল্প তেগিন এর সাথেও। যার ফলস্বরূপ তিনি সামানি সাম্রাজ্যের সাথে বিদ্রোহ করেন আর আফগানিস্তানের গাঁজায় তার নতুন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পরের বছরই আল্প তেগিন মারা যান। 

আল্প তেগিন এর মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন তার জামাতা সবুক তেগিন। পরবর্তীতে যিনি গজনভী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। 

অপরদিকে হিন্দু শাহী সাম্রাজ্যের পাশেই, মুসলিম গজনভী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় শাহী সাম্রাজ্যের রাজা একমত হতে পারেন নি। তাই তারা গজনভি সাম্রাজ্যে আক্রমন চালায়। আক্রমনের ফলে শুরু হয় যুদ্ধ এবং এই দুই সাম্রাজ্যের মধ্যে যুদ্ধ চলতে থাকে প্রায় ১বছর।  

যুদ্ধ চলাকালীন মুহুর্তে, শাহী রাজবংস তাদের সগোত্রীয় হিন্দু রাজবংশগুলোকে গজনভীদের বিপদের ব্যাপারে সতর্ক করেন এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে একত্রে লড়াই করার আওভান জানান। কিন্তু ১০০৮ সালে, সাবুক তেগিনের পুত্র মাহমুদ গজনভি শাহী সাম্রাজ্যের পরিকল্পনাকে পন্ড করে দিয়ে তাদেরকে পরাজিত করেন। তাই গজনভী সাম্রাজ্য প্রসারিত হয়ে পৌছায় পাকিস্তানের লাহোর পর্যন্ত। তবে, তাদের সাম্রাজ্যের বিস্তার কিন্তু এখানেই থেমে থাকে নি। গজনভীরা দক্ষিণের হিন্দু সাম্রাজ্যগুলিতে ধন সম্পদের একটি বৃহত্তর সম্ভাবনা খুজে পান। তাই, মাহমুদ গজনভী ধীরে ধীরে দক্ষিণে অগ্রসর হতে থাকেন এবং সেখানকার শহরগুলি দখল করতে থাকেন। 

কিন্তু এক সময়ে এসে, তার সাম্রাজ্যের বিস্তার থেমে যায়। পশ্চিম দিক দিয়ে সেলজুক তুর্কিদের আগমন ঘটলে তখন গজনভি সাম্রাজ্যকে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হয়। হারাতে হয় পশ্চিম দিকের অঞ্চলগুলোকে।

১১৮৬ সালে, লাহোর বিজয়ের মাধ্যমে উত্থান ঘটে ঘুরী রাজবংশের আর ধ্বংস হয়ে যায় গজনভী সাম্রাজ্য। ঘুরি সাম্রাজ্যই ছিল প্রথম সাম্রাজ্য যারা বাংলা জয় করেছিল এবং দ্বাদশ শতকের শুরুতে এ সাম্রাজ্যের হাত ধরেই দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বপ্রথম ইসলাম ধর্মের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল। ঘুরি সাম্রাজ্যের একজন বিখ্যাত ঘুরি ও জেনারেল ছিলেন ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি, যিনি ১২০৪ সালে বাংলা জয় করেন। সাবেক আল্প তেগিনের মতোই বখতিয়ার খিলজি ছিলেন একজন তুর্কি বংশোদ্ভূত মামলুক। ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, তিনি সেনা সাম্রাজ্যের রাজা লক্ষণ সেনকে মাত্র ১৮ জন অশ্বারোহী সৈনিক দ্বারা পরাস্ত করেন এবং  সেই সাম্রাজ্যের রাজধানী, পশ্চিমবঙ্গের নবদ্বীপকে অধিকারে আনেন। 

সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে খিলজি সেই অঞ্চলগুলিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে একজন করে সেনাপতির হাতে শাসনভার অর্পণ করেন। তারপর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন নিজের মামলুক সাম্রাজ্য এবং সালতানাত। তিন শতাব্দীরও বেশি সময় পর্যন্ত, দিল্লি সালতানাতের ৫টি রাজবংশ সফলভাবে টিকে থাকে। প্রথমে তুর্কিরা, পরে মঙ্গোলরা এভাবে ৫টি রাজবংশ মিলে শেষ পর্যন্ত ভারত ভূখন্ডের বিশাল একটি অংশ কভার করে ফেলে মুসলিমরা। এটা ছিল উপমহাদেশে ইসলাম বিকাশের মূল সময়কাল। 

প্রথম দিকে বৌদ্ধ ধর্মই ছিল বাংলার মূল ধর্ম। এর পাশাপাশি হিন্দুরাও এ অঞ্চলে বসবাস করতো। যদিও পশ্চিম এশিয়ায় তৎকালীন বৌদ্ধ মঙ্গোল সাম্রাজ্যের আক্রমণে বাংলা সরাসরি প্রভাবিত হয়নি তবুও মঙ্গোল সৈন্যদলের আধিপত্যে হিন্দু শরনার্থীদের পালিয়ে বেড়াতে হয়েছিল। 

বাংলা মুসলিমদের দখলে আসার পর, বিভিন্ন সুফি দরবেশ ও পীরেরা বাংলায় আসার এবং ধর্ম প্রচারে্র সুযোগ লাভ করেন। এমনি একজন বিখ্যাত সুফি দরবেশ ছিলেন ইয়েমেন থেকে আগত শেখ শাহ জালাল। যিনি তার ৩৬০জন সফরসঙ্গীকে নিয়ে বাংলার সিলেট অঞ্চল সফর করেন। 

ফলস্বরূপ, বাংলা অঞ্চলটি মুসলিম সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।  ইসলামের উন্নতির ফলে বৌদ্ধ ও হিন্দু বিহারের পরিমাণও ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে। ১৩৩৮ সালের দিল্লি সালতানাতে বলা হয়, এসময় বেশিরভাগ সন্ন্যাসী ও ব্রাহ্মণরা বাংলা ছেড়ে প্রত্যন্ত গ্রামীন অঞ্চল ও  নেপালের পাহাড়গুলোতে চলে গিয়েছিল। ততদিনে, বাংলা অঞ্চলটি বিভিন্ন শাসক দ্বারা তিনটি অংশে বিভক্ত হয়ে যায়। 

পরবর্তী দশকগুলোতে বাংলা সালতানাত দ্বারা পুরো বাংলাকে একত্র করা হয় এবং   এর স্বায়ত্বশাসন চলে যায় দিল্লির সুলতানি শাসনের অধীনে। ধীরে ধীরে মুসলিম জনসংখ্যা অন্যান্য ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোকে ছাড়িয়ে যেতে শুরু করে এবং এর ধারা চলতে থাকে ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত। ১৫৭৬ সালে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর সালতানাত ভেঙ্গে যায় এবং ১৬১০ সালে বাংলার প্রধান বানিজ্য কেন্দ্র হিসেবে ঢাকাকে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ সময় কৃষিক্ষেত্রের মাধ্যমে বাংলা অঞ্চলে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত সমৃদ্ধি লাভ করতে শুরু করে। পঞ্চাদশ শতাব্দীর শুরু থেকেই বাংলার নদীগুলোর অভাবনীয় রূপান্তর ঘটে। এর ফলে বাংলা ধীরে ধীরে সমৃদ্ধশালী হতে থাকে। যেমন, নৌ ব্যবস্থার উন্নতিতে অন্যান্য অঞ্চলের সাথে বাংলার ব্যবসা বানিজ্য বৃদ্ধি পায় এবং নদী প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে কৃষিকাজের পরিমানও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। যার ফলে, চালের উৎপাদন এত বেড়ে গিয়েছিল যে প্রথমবারের মতো এটি একটি বড় রফতানি পণ্য হয়ে দাড়ালো । বাংলার এই ব্যাপক উন্নতিকে মুঘল সাম্রাজ্যের বাংলা বিজয়কেই কারণ হিসেবে ধরা হয়। 

এই সময়ে গ্রামীন জনসংখ্যার ভিত্তিও তৈরী হয়ে গিয়েছিল। তখন বাংলা অঞ্চলটি প্রচুর পরিমান বন জঙ্গলে আচ্ছাদিত ছিল। প্রথম দিকে মুসলিমদের হাত ধরেই কৃষিক্ষেত্রের বিকাশ ঘটতে থাকে। তাই তাদের মধ্যে অনেকে অনুদান হিসেবে জমি পেতেন। যারা জমি পেতেন তারা জঙ্গল পরিষ্কার করে সেগুলো কৃষিকাজের উপযোগী করতেন এবং মসজিদ নির্মান করতেন। যেহেতু মুসলিমদের প্রধান উপাসনালয় মসজিদ, তাই বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসব মসজিদের আশেপাশে এসে মানুষ বসবাস করতে শুরু করে। বাংলায় ইসলামের সর্বাধিক বিকাশ ঘটেছিল বাংলার অর্থনৈতিক বিকাশের সাথে তাল মিলিয়ে। সেসময় কৃষি কাজকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হতো। 

মামলুক সালতানাতের সময়ে বাংলায় ইসলাম ছিল শহুরে সংস্কৃতির একটি অংশ যা ধনী ও অভিজাতদের সাথে সম্পর্কিত ছিল। যেমন- তাদেরকে আমলা, সৈনিক, বিচারক এবং প্রায়শই বিদেশী বংশদ্ভূত বলে ভাবা হতো। যদিও বাংলায় ইসলামের বিকাশের ক্ষেত্রে ধর্মকে চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টি ছিল না কিন্তু স্থানীয় বহু সম্পদ তাদের অধীনে চলে যাওয়ায় খুব সহজেই ইসলাম এখানে বিকাশ লাভ করতে শুরু করে। 

মুঘল শাসনামলে কাগজের ব্যাপক প্রসার ঘটে। উন্নতি হতে থাকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সকল সেক্টর সমূহ। কাগজের প্রয়োগ হিসেবে মৌখিক ঐতিহ্যকে পেছনে ফেলে চালু হয় লিখিত শব্দের প্রযুক্তি। তাই পবিত্র কুরআনের বিস্তৃতিও ঘটতে থাকে ব্যাপকভাবে।  পবিত্র কুরআনের বিস্তার আঞ্চলিক সংস্কৃতি গুলোকে প্রভাবিত করে ও মানুষ ইসলামী সংস্কৃতিকে সহজভাবে গ্রহন করে এবং তাদের সংস্কৃতিতে ইসলাম ধর্মকে জায়গা করে দেয়।  

মোঘল সাম্রাজ্যের অবসানের পর বাংলা এবং আফগানিস্তানে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মুসলিম বসবাস করতে শুরু করে। 

অবশেষে, ভারত স্বাধীনতা আইন অনুযায়ী ১৯৪৭ সালে ধর্মবিশ্বাসের ভিত্তিতে উপনিবেশগুলিকে বিভক্ত করা হলে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি আলাদা রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। পাকিস্তান এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে জন্ম নেয় যা ভারতের অন্যদিকের বাংলা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে দুটি আলাদা ভুখন্ডে পরিণত হয়। আর পাকিস্তানের বাংলা অঞ্চলটির নাম হয় পূর্ব পাকিস্তান। অবশেষে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলা অঞ্চলটি পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং বাংলাদেশ নামে নতুন একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সূচনা হয়।