পৃথিবীর শেষ প্রান্ত!


ছোটবেলা থেকেই আমাদের সবার মনে কিন্তু একবার হলেও এই প্রশ্নটা এসেছে যে, পৃথিবীর শেষপ্রান্ত কোথায়? পৃথিবীর শেষপ্রান্তে যেতে কত সময় লাগবে? কিংবা কি আছে এই পৃথিবীর শেষ প্রান্তে? কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, পৃথিবীর শেষপ্রান্ত বলে আসলে কিছু নেই। কারন, আমাদের এই পৃথিবীর আকার ঠিক একটা বলের মতো। ভাবুন তো, একটি পিপড়াকে যদি বলের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে সে কি কোনভাবে এর শেষ প্রান্তে পৌছুতে পারবে? আসলে যে জিনিসের কোন প্রান্ত নেই তার শেষ খোজাটাও নিরর্থক। ঠিক সেরকমই পৃথিবীরও কোন সীমানা না থাকায় আদতে এর কোন শেষ প্রান্ত নেই। কিন্তু নরওয়ের প্রাইকেস্টোলেন নামে এমন একটি স্থান আছে যেটি দর্শনার্থী ও পর্যটকদের কাছে পৃথিবীর সর্বশেষ স্থান বলেই মনে হয়। অর্থাৎ, বলতে পারেন আক্ষরিক অর্থে এটাই পৃথিবীর সর্বশেষ স্থান। চলুন, আজ জেনে নেয়া যাক পৃথিবী ভয়ংকর সুন্দরতম স্থান এই প্রাইকেস্টোলেন সম্পর্কে।

পশ্চিম নরওয়ের রোগাল্যান্ডের অন্তর্গত রাইফিলকে নামক জেলার দক্ষিন অংশে প্রাইকেস্টোলেন অবস্থিত। একে ইংরেজিতে Pulpit Rock বলা হয়। ২০১২ সালের দিকে প্রায় ২লক্ষ পর্যটক স্থানটি ভ্রমণ করেছে, যা নরওয়ের সবচেয়ে বেশি ভ্রমনকারী প্রাকৃতিক পর্যটক স্পটে পরিনত করেছিল। 

দু্ই পাশে উচু পাহাড় আর মাঝখানে সরু খাল এই স্থানটিকে শ্বাসরুদ্ধকর করে তুলেছে। বেস জাম্পাররা প্রায়শই প্রাইকেস্টোলেনের খাড়া পাহাড় থেকে লাফ দিয়ে সর্বোচ্চ রোমাঞ্চের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। প্রায় ১০হাজার বছর আগে বরফজমে হিমবাহের প্রভাবে প্রাইকেস্টোলেন এরকম আকৃতি ধারন করেছিল। অতীতে এখানে প্যাগাম ধর্মের লোকেদের একটি উপসনালয় ছিল। তাদের বিশ্বাস ছিল এই স্থানটি থেকে প্রার্থনা করলে ঈশ্বর তাদেরকে পাপমুক্ত করবেন। 

প্রাইকেস্টোলেন নামকরন হয় ১৯০০ সালের দিকে। অতীতে প্রাচীন স্থানীয়দের কাছে এটি হাইভ্যালাটন নামে পরিচিত ছিল। প্রাইকেস্টোলেন ভূমি থেকে প্রায় ২০০০ ফিট উচু এবং প্রস্থে রয়েছে ৮২ ফিটের সমপরিমাণ স্থান। এ স্থানটিতে পৌছুতে হলে 4কিমি পর্যন্ত পায়ে হাটা পথ পাড়ি দিতে হয়। ১৯০০ সালে সর্বপ্রথম স্থানীয় পর্যটন সংস্থা স্টাভ্যাঞ্জার একে পর্যটকদের জন্য উন্মক্ত করে দেয়। 

এখানকার বাতাস সবচেয়ে বিশুদ্ধ বাতাসের স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম বলে এর বাতাসকে বোতলজাত করে বিক্রিও করা হয়। এখানকার প্রতি লিটার বাতাসের মূল্য বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২০০ টাকার মতো। বিখ্যাত ট্রাভেল গাইড প্রতিষ্ঠান লোনলি প্ল্যানেটের তথ্যমতে, প্রাইকেস্টোলেন পৃথিবীর সবেচেয়ে ভয়ানক ও শ্বাসরুদ্ধকর স্থান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য ঝুকি প্রবন এলাকা হওয়া সত্বেও এর কিনারায় কোনপ্রকার বেস্টনী দেওয়া হয় নি। যার ফলে পর্যটকেরা খুব কাছ থেকে এক ভয়ানক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে। খুব ঝুকিপূর্ন এলাকা হলেও ২০১৩ সাল পর্যন্ত এখানে কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবে বেশ কয়েকটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারীতে একজন অস্ট্রিয়ান মহিলা এবং একজন নরওয়েইয়ান ব্যাক্তি এখান থেকে একসাথে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। ২০১৩ সালের একটি মৃত্যুর ঘটনাকে প্রাথমিকভাবে দূর্ঘটনা বলে চিহ্নিত করলেও পরবর্তীতে সেটি একটি আত্মহত্যা ছিল বলে জানা যায়।  

আপনি যদি উইন্টার সিজনে এখানে ভ্রমন করতে যান, তাহলে তুষার ও মেঘের সম্মিলনে এক অপার্থিব সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। 

হলিউড সিনেমা মিশন ইমপসিবল এর বেশ কিছু চিত্র ধারন করা হয়েছে এই প্রাইকেস্টোলেনে। হলিউড অভিনেতা টম ক্রুজ এখানে দূর্দান্ত এক একশন সিনের শট নিতে দেখা যায়।

এরপর থেকে প্রাইকেস্টোলেনে প্রতি বছর ৩ লাখেরও বেশি পর্যটক ঘুরতে আসে।