পৃথিবীর বৃহত্তম ৬টি সাফারী পার্ক

সাফারি পার্ক শব্দদুটি শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে দিগন্ত বিস্তৃত তৃণভূমি কিংবা লম্বা ঘাসের জঙ্গল। সেই জঙ্গলে রাজকীয় ভঙ্গিতে হেলেদুলে শিকারের দিকে এগিয়ে চলে বাঘ কিংবা সিংহ মামা। কোথাও জলহস্তীগুলো পানি থেকে বের হয়ে রোদ পোহাচ্ছে। কোথাও বা জিরাফগুলো ঘাসের আড়াল থেকে লম্বা গলা বের করে বিস্ময়ের সাথে হাতির বাচ্চাদের জলকেলি দেখছে। আর আমরা জীপের ভিতরে বসে এইসব প্রাণীকুলের ভিতর দিয়ে ঘুরে বেড়াই। আবার বলা যায়, চিড়িয়াখানায় যেখানে পশুপাখিরা আবদ্ধ থাকে এবং মানুষ থাকে স্বাধীন সেখানে সাফারী পার্কে মানুষ থাকে আবদ্ধ এবং পশুপাখিরা থাকে মুক্ত। আমরা হয়ত আমাদের দেশের ডুলাহাজরা ও বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কের মতো সাফারীগুলোতে গিয়ে থাকবো।একইভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রয়েছে বৃহৎ আকারের অসংখ্য সাফারি পার্ক। সেই বৃহৎ ৬টি সাফারি পার্ক নিয়ে আলোচনা করা হবে আজ।

ওকাভাংগো ডেল্টা

বন্যজীবনের নিখুত বৈচিত্রের জন্য প্রশংসিত একটি সাফারি হলো ওকাভাংগো ডেল্টা যেটির অবস্থান বতসোয়ানায়। এখানে ১৬০ স্তন্যপায়ী, ৫৩০ পাখি এবং ১৫৫ সরীসৃপ প্রজাতি, এবং ৮০০০০০ কালাহারি হাতি থাকে। এখানে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি প্রজাতির প্রাণী বসবাস করে এদের মধ্যে সিংহ, বন্য কুকুর, চিতাবাঘ, মহিষ, জিরাফ জলহস্তী, জেব্রা, হায়না, এবং নু-হরিণ অন্তর্ভুক্ত। রাতে শিয়াল, বন্য কুকুর, বন্য বিড়াল উন্মুক্ত ভাবে এখানে চলাচল করে। এই জায়গাটি ছোট ছোট দ্বিপ রয়েছে এবং এখানে প্রচুর পরিমাণ পানি রয়েছে যা জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুসংস্থানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 

রনথম্বোর পার্ক

ভারতের রাজস্থানে অবস্থিত এই বিখ্যাত জাতীয় উদ্যানটি স্থাপিত হয়েছিল ১৯৮০ সালে ।যার আয়তন প্রায় ২৮২ বর্গ কিমি। দুনিয়ার সব চেয়ে বিখ্যাত বাঘ-বন এটি। শুখা পর্ণ মোচী অরণ্যে স্বভাবতই আড়াল কম। তার ওপর গত ৩-৪ বছরে এখানে বাঘের সংখ্যা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বলা যেতেই পারে এখানে বাঘের দেখা নিশ্চই পাবেন আপনি। এছাড়াও লেওপার্ড, কুমির ইত্যাদি ও দেখার সৌভাগ্য হয়ে যাবে আপনার। 

ক্রুগার ন্যাশনাল পার্ক

দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তরপূর্বে মোজাম্বিক সীমান্তে অবস্থিত, ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কটি একটি অসামান্য স্থান। এটি আফ্রিকার সবচেয়ে বড় গেম রিজার্ভগুলির একটি। উত্তরপূর্বে দক্ষিণ থেকে 360 কিলোমিটার এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমে 65 কিলোমিটার পর্যন্ত প্রসারিত এটি উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় দক্ষিণ আফ্রিকার লিম্পোপো এবং মপুমলাঙ্গ প্রদেশের 19,633 বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে। এখানে আপনি হাতি, চিতাবাঘ, সিংহ এবং মহিষসহ আরো অনেক প্রজাতীর প্রাণীর দেখা পাবেন। আপনার ড্রাইভিং দক্ষতা যদি ভালো হয়ে থাকে তাহলে আপনি নিজে ড্রাইভিং করে সাফারিতে ভ্রমন করতে পারবেন সেই সাথে আছে আফ্রিকার এই অন্ধকারাচ্ছন্ন বন্য পরিবেশে নাইট ড্রাইভিংয়ের সুযোগ। 

সেরেঙ্গটি 

সেরেঙ্গেটি হল এক অনন্য বাস্তুতন্ত্র সহ আফ্রিকার একটি জনহীন স্থান, যা বিশ্বের সবচেয়ে এক প্রাচীনতম স্থান। মা নামক মাসাই আদিবাসীয় ভাষায়, এর নামটির অর্থ হল “অপরিসীম সমভূমি”। বিশ্বের স্থলজ স্তন্যপায়ীদের পরিযাণের এক বৃহত্তম আবাসস্থল হয়ে ওঠার জন্য সেরেঙ্গেটি সবচেয়ে সুপরিচিতি লাভ করেছে; যা বিশ্বের সবচেয়ে অন্যতম প্রাকৃতিক ভ্রমণ বিস্ময় হিসাবে অভিহিত হয়েছে। প্রতি বছর 90,000 হাজারেরও বেশি পর্যটক সাফারিতে যায় এবং বন্য প্রাণীর এই মহীয়ান পরিযাণের সাক্ষী হতে সেরেঙ্গেটি জাতীয় উদ্যান পরিদর্শনে আসে। 

ইয়ালা ন্যাশনাল পার্ক

শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে ভারত মহাসাগরের উপকূল ঘেঁষে ৯৭৯ বর্গ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে এই পার্কের বিস্তৃতি। কলম্বো থেকে এর দূরত্ব ৩০০ কিলোমিটার। ১৯০০ সালে এই পার্কটিকে চিহ্নিত করা হয় ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচ্যুয়ারি হিসেবে। জীব বৈচিত্র্যের বিচারেও ইয়ালা একটি সমৃদ্ধ অরণ্যঞ্চল। মোট ৪৪টি প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ২১৫ প্রজাতির পাখি এবং অসংখ্য সরীসৃপের বসবাস এই অরণ্যে। শুকনো মরশুমে ইয়ালাতে বন্যপ্রাণীর দেখা পাওয়া যায় সহজে। তাই এই সময়ে পর্যটকের ভিড়ও বেশি। একাধিক নির্ভরযোগ্য সংস্থা সাফারির জন্য জিপ এবং ড্রাইভারের ব্যবস্থা করে দেয়। 

পাতাগোনিয়া 

পাতাগোনিয়া দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একটি অঞ্চল। আর্জেন্টিনা এবং চিলি উভয় দেশের কিছু অংশ সমন্বয়ে গঠিত পাতাগোনিয়া। সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্যের অধিকারী হওয়ার জন্য পাতাগোনিয়া বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত। সারা বিশ্ব থেকে অসংখ্য পর্যটক পাতাগোনিয়া বেড়াতে আসে। পাতাগোনিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে আন্দিজ পর্বতমালা। আন্দিজ পর্বতমালার পূর্বাঞ্চল থেকে কলোরাডো নদীর দক্ষিণদিক পর্যন্ত পাতাগোনিয়া অঞ্চল বিস্তৃত। এর পশ্চিমে চিলির ভালভিদিয়া শহর অবস্থিত।