পৃথিবীতে এখনো এমন অনেক স্থান আছে যেগুলোতে প্রযুক্তির নীল আলোতেও সেখানে এখনো রচিত হচ্ছে বহু ভৌতিক গল্প। এরকমই ৫টি ভূতুরে শহরগুলোর গল্প নিয়ে আজ আবারো হাজির হলাম। এর আগের পর্বে আমি এরকমই ৫টি ভূতুরে শহর নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। আজ আমরা এরকমই আরো ৫টি পরিত্যক্ত ও ভূতুরে শহর নিয়ে আলোচনা করবো।
5) Oradour-Sur-Glane
যুদ্ধের বিভীষিকাময় ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে থাকা একটি শহর হচ্ছে ওরাদাউর-সুর-গ্লেন। এ শহরটির অবস্থান বর্তমান ফ্রান্সে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি সৈন্যরা ৬৪২ জন শহরবাসীসহ পুরো শহরটিকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেয়। যার কারনে ১৯৪৪ সাল থেকে শহরটি পরিত্যক্ত হয়ে রয়েছে। পোড়া দালান এবং গাড়িগুলোই বর্তমানে শহরটির ইতিহাসের সাক্ষী।
4) Danushkodi, India
ভারতের তামিলনাড়ুর পমবান দ্বীপের দানুষকদি একটি পরিত্যক্ত শহরের উদাহরণ। ১৯৬৪ সালের বিধ্বংসী সাইক্লোন দ্বারা শহরটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং এই সাইক্লোনের ফলে তখন ২০০০ এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। যার ফলে বহু মানুষ দানুশকদি শহর ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। পরে মাদ্রাজ সরকার শহরটিকে বসবাসের অনুপযোগী এবং পরিত্যক্ত হিসাবে ঘোষণা করে।
3) Pyramiden
১৯২৭ সাল পর্যন্ত নরওয়ের সাভালবার্দের এই পিরামিডেন শহরটি সোভিয়েত ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এখানে কাজ করতো সোভিয়েত ইউনিয়নের নিয়োজিত অনেক কর্মী। সেখানে তাদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছিল একটি শহর যেখানে ছিল তাদের বসবাসের জায়গা, খেলাধুলার জায়গাসহ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা। মূলত ওখানকার একটি খনিতে কাজ করার জন্যই গড়ে তোলা হয়েছিল এই শহরটি। তবে ভূতুড়ে সব কাণ্ডকারখানার জন্য এক সময় পিরামিডেন শহরটি- ছেড়ে আসতে বাধ্য হয় ওখানকার অধিবাসীরা। ১৯৯৮ সালে শহরটি পরিত্যক্ত হয়ে গেলেও সেখানে এখনো অনেক বিল্ডিং রয়েছে। আর এসব বিল্ডিংয়ের কোন কোনটিতে রয়েছে থিয়েটার, লাইব্রেরি বা মিউজিক সেন্টার।
2) Humberstone, Chile
মরুভূমির কবলে হাড়িয়ে যাওয়া একটি শহর এই হাম্বারস্টোন। শহরটি পৃথিবীর বিখ্যাত মরুভূমি আতাকামায় অবস্থিত এবং এটিও একসময় খনির শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। চিলির উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত এই শহরটি সে সময় প্রাণ চাঞ্চল্যে ভরপুর থাকলেও ১৯৫৮ সাল থেকে শহরটি পরিত্যক্ত শহরে পরিণত হয়েছে। শহরটি পরিত্যক্ত হলেও সেখানে রয়েছে অনেক সংরক্ষিত ভবন। এই সব ভবনের একটিতে রয়েছে থিয়েটার। যে থিয়েটারে রয়েছে সে সময়ের ব্যবহৃত চেয়ার, আসবাবপত্র, সুইমিংপুল ইত্যাদি।
1) Akarmara, Abkhazia
১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ কয়লা খনিকে কেন্দ্র করে সেসময়কার সোভিয়েত ইউনিয়নে এই শহরটির উদ্ভব হয়। বর্তমানে এটি জর্জিয়া থেকে তৈরি হওয়া আংশিক স্বীকৃত দেশ আবখাজিয়াতে অবস্থিত। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর জর্জিয়ার সরকারি বাহিনীর সঙ্গে আবখাজিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়, আবখাজ বিচ্ছিন্নতাবাদীদেরকে সাহায্য করে রাশিয়ান ফেডারেশন।
যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে আবখাজিয়ার আকারমারা শহরের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এখানকার বাসিন্দারা শহরটি ত্যাগ করে। শহরের উঁচু উঁচু ঘরবাড়ি জনশূন্য হয়ে পড়ে এবং গাছপালার দখলে চলে যায়। পরিনতিতে একসময় এটি একটি সার্থক 'ঘোস্ট টাউনে' পরিনত হয়।