কি হবে যদি আপনি জম্বি ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হন?
গভীর জঙ্গলের ভেতর, এমন একটি ছত্রাক বাস করে, যেটি কোন প্রাণীকে সংক্রমিত করার মাধ্যমে তাদেরকে জম্বিতে রূপান্তরিত করে দিতে সক্ষম। হ্যা, আমি কোন সিনেমার গল্প কিংবা কল্পকাহিনী শোনাচ্ছিনা। বাস্তবে কর্ডিসেপস ফাঙ্গাস (Cordyceps Fungus) নামে এক ধরনের মারাত্মক ছত্রাক রয়েছে, যেটি কিনা পুরো প্রজাতিকে ফেলে দিতে পারে ধ্বংসের মুখে। এই ছত্রাকটি প্রতিনিয়ত সংক্রমণ ঘটিয়ে বিভিন্ন কীটপতঙ্গকে জম্বিতে পরিণত করছে। এমনকি আপনি এখন এই ভিডিওটি দেখতে দেখতে পৃথিবীর কোথাও কোন না কোন পতঙ্গ জম্বিতে পরিণত হয়ে গিয়েছে। এখন প্রশ্ন এটাই, কি হবে যদি এটা কোনভাবে আমাকে কিংবা আপনাকে সংক্রমিত করে? এর দ্বারা সংক্রমিত হয়ে আমরাও কি জম্বিতে পরিণত হয়ে যাব?
কর্ডিসেপস ফাঙ্গাস তার কাজ করা শুরু করে দেয়, যখন প্রাথমিক পর্যায়ে ফাঙ্গাসের স্পোরগুলি কোনও পোকামাকড়ের শরীরে প্রবেশ করে এবং এর পেশীগুলিতে শিকড় তৈরী করে ফেলে। এখানে পোকামাকড় হিসেবে পিপড়ার কথাই বলা যাক। কর্ডিসেপস ফাঙাসটি পিপড়ার শরীরের প্রবেশ করে এর পেশীগুলোতে শিকড় তৈরী করে ফেলার পর স্পোরগুলি পোকামাকড়কে নিয়ন্ত্রণ করে এবং পিপড়াটিকে এমন কোনো উপযুক্ত স্থানে নিয়ে যায় যা ঐ ছত্রাকটির বংশবৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।
এরপর ছত্রাকটি পিপড়াটিকে কোন পাতার ওপর কামড় বসিয়ে দিতে বাধ্য করে যাতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এটি সেখানে এই অবস্থায় থাকতে পারে। সেখানে পরজীবী দ্বারা এই পোকাটিকে খাদ্য খাওয়ানো হয় এবং কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত একে এভাবেই জীবিত রাখা হয়, যাতে এটি আরো স্পোর রিলিজ করতে পারে এবং আরো বেশি পোকামাকড়কে সংক্রমিত করতে পারে। কিন্তু, কি হবে যদি এটা আপনার সাথে হয়? আপনার পুরো শরীরকে কিভাবে নিয়ন্ত্রন করে ফেলতে পারে এই কর্ডিসেপ্স ফাঙ্গাস?
যদি এই ছত্রাকটির পরজীবী কোনভাবে পোকামাকড় থেকে মানুষের মধ্যে এসে পরে তবে এই সংক্রমণের প্রধান কারন হিসেবে সম্ভবত বাতাসকেই দায়ী করা হতে পারে। কারণ বাতাসের মাধ্যমে এই ছত্রাকটি মিশে গিয়ে বাতাসকে বিষাক্তকরণের মাধ্যমে এটি সংক্রমণ ঘটাতে পারে। শহর, গণপরিবহন এবং টানেলের মতো জায়গাগুলি হবে এই কর্ডিসেপস ফাঙ্গাসগুলির সম্ভাব্য বিপদজনক বাসস্থান। আবার এটাও হতে পারে যে ছত্রাকটি, অন্য কোন পরজীবীর রূপ ধারন করে আপনার শরীরে প্রবেশ করেছে এবং আক্রমণ করেছে।
আপনি যদি এই ছত্রাকটি দ্বারা প্রথমবারের মতো সংক্রামিত হন, তাহলে সম্ভবত আপনি এমন কিছু লক্ষণ অনুভব করবেন যা এর আগেও অন্যান্য রোগের লক্ষণ হিসেবে আপনার সাথে ঘটেছিল। যেমন- জ্বর, পেটে ব্যথা, দুর্বলতা এবং বমি বমি ভাব এসব সাধারণ লক্ষণই কর্ডিসেপস ফাঙ্গাসে আক্রান্ত রোগীর প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। এই ফাঙ্গাসটি যখন আপনার ডোপামিন লেভেলে এফেক্ট করবে, তখন আপনি প্রচন্ড দূর্বল ও বিষন্ন অনুভব করবেন। এই ব্যাপারগুলো আমার আপনার কাছে খুবই পরিচিত কিন্তু সায়েন্সের প্রেডিকশন অনুযায়ী এই বিষয়গুলোই জম্বি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর প্রধান লক্ষণ হিসেবে ধরা দেবে। সময় বাড়ার সাথে সাথে ছত্রাকটি আপনার স্নায়ুতন্ত্রের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে। যেহেতু আপনি যেকোনো পোকামাকড়ের তুলনায় আকারে বেশ বড়, তাই কর্ডিসেপস ফাঙ্গাস আপনার শরীরের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিতে অন্তত কয়েক মাস সময় তো লাগাবেই।
প্রথমে ফাঙ্গাসটি আপনার হাত ও পা বেয়ে উপরে উঠবে। যখন এটি আপনার শরীরে যথেষ্ট পরিমাণে ছড়িয়ে যাবে তখন এটি আপনার উপর নিয়ন্ত্রণ করার পুরো শক্তিমত্তা অর্জন করে ফেলবে। আপনি এটার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন, কিন্তু এটি একবার আপনার মধ্যে এসে পড়লে তখন আর কিছুই করার থাকবে না। তার পরেও কিন্তু আপনার মস্তিষ্ক সচল থাকবে, তবে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে এটা যে, এর উপর আপনার নিজেরই কোন নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।
সর্বোপরি, কর্ডিসেপসের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হচ্ছে যতটা সম্ভব ছত্রাকটিকে আপনার পুরো শরীরের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া। তারপর আপনাকে বদ্ধ কোনও জায়গার ভিতরে আটকে রাখা এবং একে বাড়তে দেয়া। এভাবে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে চলতে সেখানেই আপনার মৃত্যু হবে। আপনি মারা গেছেন, কিন্তু কর্ডিসেপস ছত্রাকটি তার সংক্রমণ ঠিকই চালিয়ে যাবে। এতসব কিছু ঘটে যাবে কিন্তু আপনার মস্তিষ্কের উপর আপনার কোন নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ব্যাপারগুলো সম্পর্কে আপনি কিছুই বুঝতে পারবেন না। আপনার দেহ শুধুই একটা ছত্রাক উৎপাদনকারী অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হবে। এর পরবর্তী ধাপ হিসেবে ছত্রাকটি ও এর স্পোরগুলো আপনার শরীর থেকে বেরিয়ে আরো ছড়িয়ে যেতে শুরু করবে এবং অনেক বেশি লোকেদের সংক্রমিত করতে থাকবে। এতোকিছু জানার পর আপনার মনে নিশ্চয়ই কিছুটা ভয় কাজ করছে? তাহলে শুনুন, এই ফাঙ্গাসটি কোন কীটপতঙ্গকে সংক্রমিত করার মাধ্যমে যেমন তাদেরকে জম্বিতে পরিণত করে। তাদের আচরণ অনেকটা সিনেমার জম্বিগুলোর মতো হয়ে যায়, এটা যেমন বৈজ্ঞানিক সত্য। তেমনি এই কর্ডিসেপস ফাঙ্গাস আমাদের সাথেও ঠিক এমনটাই করবে, তার সম্ভাবনাও একেবারেই ক্ষীণ। কারণ , আমাদের মানুষের শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পোকামাকড়ের চেয়ে অনেক অনেক শক্তিশালী। তাই এটা নিয়ে মূলত দুশ্চিন্তা করার কিছুই নেই। তবুও আমাদের সবারই উচিৎ সকল প্রকার ছত্রাকের পরজীবী থেকে নিজেদের বাচিয়ে রাখা। দিন দিন ছত্রাক ও ভাইরাসের সংক্রমণ যেভাবে বেড়ে চলেছে, এটা চলতে থাকলে পৃথিবী থেকে প্রজাতি ধ্বংসের অন্য কোন কারন খুজতে হবে না আমাদের।
