দ্য সিম্পসন্সঃ ভবিষ্যত বলে দেয় যে কার্টুন
![]() |
কার্টুন এমন একটি শব্দ যেটা শুনলে পৃথিবীর সকল বাচ্চাদের হাসির মুখখানা আরেকটু চওড়া হয়ে যায়। ছোটবেলায় তো আমরা অনেক কার্টুন দেখেছি, এমনকি বড় হয়েও অনেকে এখনো কার্টুন দেখি। সাধারনত মনের খোরাক ও বিনোদনের জন্যই কিন্তু মানুষ কার্টুন দেখে থাকে। তবে ব্যাপারটা হলো, ছোটবেলাতে আপনি যে দৃষ্টিতে কার্টুনগুলো দেখেছেন সেগুলোর অর্থ কি আসলেই ওইরকম? কার্টুনগুলো কি সত্যিই এতোটা সহজ-সরল? না। এর পেছনেও আছে অনেক কন্সপিরেসি থিওরী বা অন্যকিছু। দ্য সিম্পসন্স- এমনি একটু কার্টুন যেটা ভবিষ্যত বলে দেয়। কি? বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে? যারা দ্য সিম্পসন্স কার্টুনটি দেখেছেন তারা হয়ত কিছুটা হলেও আঁচ করতে পেরেছেন যে আমি কি বলতে চাচ্ছি। সিম্পসন্স হলো একটি মার্কিন এনিমেটেড সিচুয়েশন কমেডি বা সিটকম যেটির নির্মাতা হলেন ম্যাট গ্রোনিং। ম্যাট গ্রোনিং ও তার দল এতটাই দূরদর্শী যে, মানুষকে হাসাতে হাসাতেই এই কার্টুনের মাধ্যমে বলে দিয়েছেন কিছু সুদূর ভবিষ্যতের কথা। সেই ভবিষ্যতবাণীগুলো কি ছিল? জেনে নেয়া যাক এই আলোচনা থেকে।
সিজন ০২
মাইলেকেঞ্জেলোর 'অশ্লীল' ভাস্কর্য (পর্ব ০৯)
১৯৯০ সালে সম্প্রচারিত এই পর্বে দেখানো হয়, ইতালির বিশিষ্ট শিল্পী মাইকেলেঞ্জেলোর তৈরি ডেভিডের 'অশালীন' ভাস্কর্যটি স্থানীয় জাদুঘরে প্রদর্শনের বিরূদ্ধে স্প্রিংফিল্ডিয়ান অধিবাসীরা প্রতিবাদ জানায়। দ্য সিম্পসন্সের জগতটির নাম ছিল স্প্রিংফিল্ড। স্প্রিংফিল্ডের অধিবাসীদের প্রতিবাদের মুখে পড়ে অবশেষে ডেভিডের ওই ভাস্কর্যটির লজ্জাস্থান ঢেকে দেওয়া হয়।
২০১৬ সালে এমনই ঘটনা ঘটতে দেখা যায় রাশিয়াতে। রাশিয়ানরা আন্দোলন করেন সেইন্ট পিটার্সবার্গের প্রাণকেন্দ্রে মাইলেকেলেঞ্জেলোর তৈরি 'ডেভিড' ভাস্কর্যটিকে পোশাক পরানোর জন্য। এটি রাশিয়ায় পিটার্সবার্গে স্থাপন করায় রাশিয়ানরা একে মূল্যবোধের অবক্ষয় মনে করে এবং দাবি করে যেন ভাস্কর্যের লজ্জাস্থান ঢেকে দেওয়া হয় এবং অবশেষে তাই করা হয়। উল্লেখ্য যে, ইসলাম ধর্মানুসারে ডেভিড ছিলেন নবী দাঊদ (আঃ)।
সিজন ০৫
‘সিগফ্রিড এন্ড রই’-এর উপর বাঘের আক্রমণ (পর্ব ১০)
১৯৯৩ সালে সম্প্রচারিত হওয়া এই পর্বটি ‘স্প্রিংফিল্ড’ বা ‘হাও আই লার্নড টু স্টপ ওরিং অ্যান্ড লাভ লিগালাইজড গ্যাম্বলিং’ নামে পরিচিত। এ পর্বে দেখানো হয়, একজন জাদুকর একটি ক্যাসিনোতে সাদা টাইগারকে নিয়ে খেলা দেখাচ্ছেন। হঠাৎ বাঘটি হিংস্র হয়ে যায় এবং জাদুকরকে আঘাত করে।
২০১৩ সালে ‘সিগফ্রিড এন্ড রই’ জাদুদল জাদু দেখানোর সময় তাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাঘ, মন্টেকর হঠাৎ আক্রমণ করে রই হর্নের উপর। সেবার প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন তিনি।
সিজন ০৬
আইফোনের অটোকারেক্ট ফিচার (পর্ব ০৮)
১৯৯৪ সালে আইফোনের অটোকারেক্ট ফিচার নিয়েও আছে দ্য সিম্পসন্সের একটা পর্ব। যার নাম ‘লিসা অন আইস’। এখানে দেখানো হয় কিয়ার্নি, বন্ধু ডোলফকে বলে তার পারসোনাল ডিজিট্যাল অ্যাসিস্ট্যান্টে ‘বিট আপ মার্টিন’ লিখতে। কিন্তু অটোকারেকশনের কারণে সেটি হয়ে যায় ‘ইট আপ মার্থা’। যার কারনে তারা তাদের শত্রু মাটিনকে গণধোলাই দিতে পারেনি।
২০০৭ সালে আইফোনে অটোকারেক্ট অপশন যোগ হয়। এবং আমরা সবাই জানি, এই সফটওয়্যারটা মাঝে মাঝেই এরকম বিরক্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতায়ন
দ্য সিম্পসন্সের এই পর্বটির নাম ‘বুর্ট টু দা ফিউচার’। একদিন বুর্ট স্বপ্নে দেখে, লিসা ডোনাল্ড ট্রাম্পের বংশধর হিসেবে উত্তরাধিকারসূত্রে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি হয়েছে। লিসার ক্ষমতায়নে ফলে আমেরিকায় করুণ দুর্দশা নেমে এসেছে, কারণ সে মোটেও ভালো শাসক ছিল না। পর্বটি সম্প্রচারিত হয়েছিল ২০১০ সালে এবং ট্রাম্প নির্বাচনে জয়লাভ করেন ২০১৬ সালে।
দ্য শার্ড আবিষ্কার (পর্ব ১৯)
এই ভবিষ্যদ্বাণীটি ‘লিসা’স ওয়েডিং পার্ট ২’ এর মধ্যে ছিল। লিসা লন্ডনের বেড়াতে গিয়ে টাওয়ার ব্রিজের পেছনে একটা গগনচুম্বী দালান দেখে, যেটা পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সালে তৈরি হওয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় দালান দ্য শার্ডের মতো দেখাচ্ছিল।
দ্য শার্ড পশ্চিম ইউরোপের সবচেয়ে উঁচু দালান। ৮৪ তালা বিশিষ্ট এই ভবনটি নির্মাণ করেন রেঞ্জো পিয়ানো নামের এক স্থপতি। লিসার দেখা গগনচুম্বী দালানটার শীর্ষভাগ ছিল সূঁচালো এবং দ্য শার্ডের শীর্ষভাগও তেমনটাই।
সিজন ১০
ডিজনির 20th Century Fox কেনা (পর্ব ০৫)
১৯৯৮ সালে সম্প্রচার হয় দ্য সিম্পসন্সের ‘হোয়েন ইউ ডিশ আপুন অ্যা স্টার’ পর্বটি। এখানে দেখানো হয়, ডিজনি টুয়েন্টিএথ সেঞ্চুরি কোম্পানিকে ফক্স কোম্পানি কিনে নিচ্ছে।
আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রায় সারে বাহান্ন বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ডিজনি টুয়েন্টিথ সেঞ্চুরি কোম্পানিকে ফক্স কিনে নেয়।
সিজন ১১
সিম্পসনস’ এর করোনা ভাইরাস
বর্তমানে করোনা ভাইরাস হচ্ছে বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত একটি বিষয়। আর ২৭ বছর আগে কার্টুনটির এক পর্বে ছড়িয়ে পড়া এই করোনা ভাইরাসের কথা বলা হয়েছিল। সেখানে এই ভাইরাসের নাম দেওয়া হয়েছিল ওসাকা।
১৯৯৩ সালে প্রচারিত দ্য সিম্পসনসের এই এপিসোডটির নাম ছিল ‘মারজ ইন চেইনস’। এই পর্বটিতে দেখা গেছে যে আমেরিকার কল্পিত শহর স্প্রিংফিল্ডে একজন ব্যক্তি জাপান থেকে এসেছেন। তিনি শহরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ছোঁয়াচে এই রোগে পুরো শহরজুড়ে একটি বিপজ্জনক ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।
দ্য সিম্পসন্সের এই ভবিষ্যতবানীগুলো সম্পর্কে আপনার কি মতামত? এগুলোকে আপনি ভবিষ্যতবানী বলবেন? নাকি পুরো ব্যাপারটিই আপনার কাছে কাকতালীয় বলে মনে হয়?
