করোনাভাইরাসের ইতিবাচক প্রভাব
আপনারা সবাই জানেন, বর্তমান সময়ে পুরো বিশ্ব কাঁপছে এক ভয়াবহ আতংকে। আর এই আতঙ্কটির নাম হচ্ছে করোনাভাইরাস। ২০১৯ এর শেষ থেকে শিরোনামে উঠে এসেছে এই মরনঘাতী ভাইরাসের নাম! কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুরো পৃথিবীকে আচ্ছা করে শিক্ষা দিচ্ছে একটা চালের কণা থেকে লক্ষ লক্ষ গুণ ক্ষুদ্র এই ভাইরাসটি। করোনাভাইরাস কি এবং এটা মানুষের দেহে কিভাবে আক্রমণ করে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে ২টি ভিডিও রয়েছে, ভিডিওগুলোর লিংক এই পোষ্টের নিচে দেয়া আছে। আপনি চাইলে সেগুলো দেখে নিতে পারেন। এই ভাইরাসটি এতো দ্রুত বিশ্বব্যাপি বিস্তার করেছে যেটা সবার চিন্তারও বাইরে ছিল। অনেকে তো এটাকে সাধারণ কোন জীবাণু হিসেবে ধরে নিয়ে কোন পাত্তাই দিচ্ছিল না, অথচ এই মহামারী জীবাণুটি কিন্তু তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে একেবারে নিরবে. বন্ধ করে দিয়েছে পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশের বর্ডার। ক্রমাগত অচল করে দিয়েছে শিল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থনিতির দুয়ার। এবং দ্রুতগতিতে নিয়ে নিচ্ছে একের পর এক জীবন্ত প্রাণ। এমতাবস্থায় সবাই বাধ্য হয়েছে পুরো বিশ্বের কর্মচাঞ্চল্য থেকে বিরতি নিতে। পুরো বিশ্বই আজ নিজেকে আবদ্ধ করে রেখেছে ঘরের এক কোণে। জনশূণ্য হয়ে গিয়েছে পৃথিবীর পথঘাট, স্কুল কলেজ, অফিস আদালতসহ সকল জনসমাগমে পূর্ণ থাকা স্থানগুলো। চলুন তাহলে বেরিয়ে পরা যাক জনমানবহীন নতুন এক অন্যরকম পৃথিবীতে।
করোভাইরাসের কারনে যদিও পুরো পৃথিবী স্থবির হয়ে গিয়েছে তবুও এরকিছু ইতিবাচক দিক লক্ষ্য করা যাচ্ছে! খেয়াল করে দেখুন, রাস্তায় কোন গাড়ি চলছে না, আকাশে উড়ছে না কোন উরোজাহাজ, সমুদ্রপথে চলছে না শীপ বা ওয়াটারক্রুজ, কলকারখানাগুলোও বন্ধ হয়েছে, পোড়ানো হচ্ছে না কোন জীবাশ্ম জ্বালানী, তাহলে কি আর আগের মত নাইট্রোজেন ও কার্বনযুক্ত গ্যাসের নিঃসরন হবে? নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন করোনাভাইরাস পেনডামিকের ফলে পৃথিবীজুড়ে নাইট্রোজেন গ্যাস ও কার্বন এমিশনের মাত্রা ২৫% কমে এসেছে। সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার’ এর তথ্যমতে চলতি মার্চের শুরুর চার সপ্তাহে চীন আগের বছরের এই সময়ের তুলনায় ২০ কোটি টন বা ২৫ শতাংশ কম কার্বন নিঃসরণ করেছে। এর পরিমাণ আর্জেন্টিনা, মিশর বা ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোর বার্ষিক কার্বন নিঃসরণের সমান।
যেহেতু কেউ আর ঘর থেকে বের হচ্ছে না তাই রাস্তাঘাটে ময়লা আবর্জনা, প্লাস্টিক দ্বারা নোংরা হচ্ছে না! মানুষের নোংরামো থেকে বেচে যাচ্ছে চির নোংরা জায়গাগুলোও! সমুদ্র-সৈকতগুলোতে পর্যটক না থাকায় সামুদ্রিক প্রাণীগুলো কিছু সময়ের জন্য গায়ে রোদ মাখিয়ে নিচ্ছে. পৃথিবীর বিভিন্ন দেশসহ আমাদের কক্সবাজারেও দেখা মিলেছে ডলফিন অক্টোপাসসহ অসংখ্য সামুদ্রিক প্রানের। অতিরিক্ত উষ্ণতার ফলে যেখানে প্রায়শই বরফ গলে পানি হয়ে যেতো সেই গ্রীনল্যান্ড ও এন্টার্কটিকায় গলে যাওয়া বরফ আবার জমতে শুরু করেছে। এই ভাইরাস থেকে দূরে থাকতে সবাই নিজের শরীরসহ বাড়ির আঙ্গিনাগুলোও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখছে। পৃথিবীতে ভারী অস্ত্রের মহড়া বন্ধ হয়েছে। যার ফলে ভূপৃষ্ঠের ক্ষতি হওয়া থেকে অনেকটাই বেচে যাচ্ছে পৃথিবী।
সবাই এখন তাদের নিজ নিজ পরিবারকে আরো বেশি সময় দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে যেটা কিনা দেখা যাচ্ছে কখনো এভাবে সম্ভব হয়ে ওঠে নি। করোনাভাইরাসে কারণে লকডাউন পরিস্থিতিতে অনেককে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসও বিচ্ছিন্ন থাকতে হচ্ছে। পরিবার, পরিজন ছেড়ে থাকতে হচ্ছে সেলফ কোয়ারেন্টাইনে। এতে একাকিত্বের পরিস্থিতি তৈরি হলেও কঠিন এই পরিস্থিতিতে সহমর্মিতাটা কিন্তু আরো কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সবাই পরিবারের সদস্য, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনদের খবর নিচ্ছেন. করোনাভাইরাসে আক্রান্ত না হওয়ার উপায় বাতলে দিচ্ছেন। এদিকে ইতালির ভ্যানিস সহ পৃথিবীর বিখ্যাত বিখ্যাত সব খালগুলোর পানি দূষনমুক্ত হয়ে স্বচ্ছ হতে চলেছে যেটা আসলেই পরিবেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিক।
পৃথিবীর অনেক শহরগুলোতে বন্যপ্রাণীর আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে! তারা এখন পাথর আর বিটুমিনের তৈরী রাস্তায় বিচরণ করছে। আসলে চিত্রটা এমন হওয়া
উচিত বলেই আমি মনে করি! এই পৃথিবীটা শুধুমাত্র আমাদের মানবজাতির জন্য নয়। এতে অন্যান্য প্রানীগুলোরও অধিকার আছে। আর আমরা মানুষেরা তাদের প্রাপ্যটুকু পাওয়ার সুযোগ তো দিচ্ছিই না বরঞ্চ হাজার হাজার বছর ধরে এই পৃথিবীটাকে একটু একটু করে ধ্বংস করে যাচ্ছি! তাই প্রকৃতি আজ নিজেই, যেখানে নিজের ঘরের মানুষকে আটকিয়ে রাখা যায় না সেখানে ৭০০ কোটি মানুষকে আটকিয়ে রেখেছে। হয়তো সৃষ্টিকর্তা করোনার দ্বারা ৭০০ কোটি মানুষকে আবদ্ধ করে প্রকৃতিকে রিকোভার করছেন। ফলে প্রকৃতি তার নতুনরূপে সাজতে বসছে।
তবুও আমরা কেউ চাইনা করোনার এই পরিস্থিতি অব্যহত থাকুক। করোনায় সৃষ্ট মহামারীতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পরবে বিশ্ব অর্থনীতিতে। কিছু কিছু দেশে দুর্ভিক্ষের নেয় আঘাত হানবে। আর এটা যদি চলতে থাকে তাহলে এক পর্যায়ে ইতিহাস লিখার জন্যেও কেউ বেঁচে থাকবে না। তাই সবাইকে অনুরোধ করবো, বাসায় থাকুন, নিরাপদে থাকুন। আর সৃষ্টিকর্তার কাছে বেশি বেশি প্রার্থণা করুন।
করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত ভিডিওঃ
করোনাভাইরাস কি? লক্ষণ ও বাচার উপায়!
করোনাভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি!
