ইসরায়েলের আয়রন ডোম কিভাবে কাজ করে?

আয়রন ডোম এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। আমরা সবাই জানি যে, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা থেকে যে আর্টিলারি রকেট ইসরায়েলের উদ্দেশ্যে নিক্ষেপ করা হচ্ছে তার মোকাবেলা করা হচ্ছে আয়রন ডোম মিসাইল ডিফেন্স এয়ার সিস্টেম দিয়ে। 

Iron dome শব্দের অর্থ - লোহার গম্বুজ। অর্থাৎ এটি একটি নির্দিষ্ট এলাকার আকাশকে গম্ভুজের মতো সুরক্ষা প্রদান করে থাকে। 

Irone Dome এর বিভিন্ন প্রকার মিসাইল বিভিন্ন রেঞ্জ পর্যন্ত কাজ করে থাকে।

Very Short Range ক্যাটাগরির আয়রন ডোমগুলো 10 কিমি পর্যন্ত এলাকাকে রক্ষা করতে পারে। এই মিসাইলগুলো ছোট রকেট থেকে শুরু করে আর্টিলারি বা যেকোনো গোলাকে আটকে দিতে পারে।

Short Range এর মিসাইলগুলোর কাজ হচ্ছে 20 কিমি এলাকা পর্যন্ত যেকোন রকেট কিংবা বিমানকে আটকে দেয়া।

এরপর আছে লং রেঞ্জের আইরন ডোম মিসাইল যেগুলো 50 কিমি এলাকা পর্যন্ত যেকোনো উড়ন্ত প্লেনকে আটকে দিয়ে, সেগুলোকে ধ্বংস করে দিতে পারে। 

এছাড়া লং রেঞ্জের মিসাইল সিস্টেমের কাজ হচ্ছে 160-200 কিমি এলাকা পর্যন্ত যেকোনো মিসাইল অথবা বিমানকে ধ্বংস কর ফেলা। 

পৃথিবীতে একমাত্র ইসরাইলেই এই আইরন ডোম মিসাইল তৈরী করা হয়। ইসরায়েলের চারদিকে প্রায় ১০টি এরকম আয়রন ডোম মিসাইল সিস্টেম স্থাপন করা আছে। এগুলো আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স দ্বারা অটোমেটিক সিস্টেমে খুব সুক্ষ্মভাবে কাজ করে। 

চলুন জেনে নেয়া যাক এই আয়রন ডোমগুলো কিভাবে প্রতিপক্ষ থেকে আগত মিসাইল বা রকেটকে ধ্বংস করে মাটিতে পতিত হওয়া থেকে রক্ষা করে। 

আইরন ডোমের ডিফেন্স সিস্টেমের প্রথম ধাপে থাকে ডিটেকশন প্রক্রিয়া অর্থাৎ শনাক্তকরন প্রক্রিয়া। রাডার ইউনিট, দ্রুতবেগে আগত কোন রকেট শনাক্ত করে এবং বেতারের যোগাযোগের মাধ্যমে এর প্রকৃত গতি নির্ণয় ও এর পথ চিহ্নিত করে তা মিসাইল ব্যাটারি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে পাঠায়। নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের কম্পিউটার সূক্ষ্ম হিসাব নিকাশ বা বিশ্লেষণ করে দেখে যে ধাবমান রকেটটি জনবহুল এলাকায় আঘাত করবে কিনা। যদি জনবহুল এলাকায় আঘাত করবে বলে মনে হয়, তাহলে একে ধ্বংস করা হয়। আর যদি মরুভূমি, পানি, সাগর, বনজঙ্গল ইত্যাদি জায়গায় পরবে বলে মনে হয় তাহলে একে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি কম্পিউটার সিস্টেমের মাধ্যমে ডিটেক্ট করে। আইরন ডোম থেকে নিক্ষেপকৃত ইন্টারসেপ্টর মিসাইল তার চলার সময় প্রতি মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ও রাডার থেকে অটোমেটিক্যালি পথনির্দেশ লাভ করতে থাকে। 

ইন্টারসেপ্টর মিসাইলটি আগত রকেটের নিকটবর্তী হওয়ার সময়ই বিস্ফোরিত হয়। এভাবে আয়রন ডোমের সাহায্যে যুদ্ধকালীন আকাশ থেকে আক্রমনের সময় ভূমিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো যায়। আয়রন ডোম একটি মিসাইল শেষ করতে দুটি মিসাইলের সাহায্য নেয় একটি প্রচলিত রকেট আরেকটি বিস্ফোরক। মানে একসাথে দুটি রকেটের দরকার পরে এই একটি রকেট শেষ করতে। এছাড়া এই আইরন ডোম এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমে খরচের পরিমানটাও আকাশচুম্বী হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ যদি হামাসের রকেটের কথা ধরি, তাহলে দেখবো যে তাদের একটি রকেট তৈরি করতে খরচ হয় মাত্র ২০০/৩০০ ডলার। আর এই 200/300 ডলারের রকেটকে আইরন ডোম মিসাইল দ্বারা ধ্বংস করতে খরচ হয় কমপক্ষে 80 হাজার ডলার। এসব মিসাইলের অ্যাকুরেসি রেট 80-90% হয়ে থাকে। এক ব্যাটারি Iron dome সিস্টেমে 4টি লঞ্চার থাকে এবং প্রতিটি লঞ্চারে 20টি করে মিসাইল থাকে অর্থাৎ মোট ৮০ টি মিসাইল। এই সবগুলো মিসাইলই ফায়ার করা হয়ে গেলে নিশ্চিত ভাবেই পুনরায় মিসাইল ভরতে কিছুটা সময় লাগে। এই সময়ের গ্যাপে কেউ রকেট ছোড়লে আইরন ডোম এর পক্ষে তখন আর কিছুই করার থাকে না।