সূর্যগ্রহণ সম্পর্কিত ২০টি অসাধারণ তথ্য

  • সূর্যগ্রহণ এর ইংরেজী উচ্চারন হচ্ছে Solar Eclipse। আর গ্রীক ভাষায় এই ‘Eclipse’ বা সূর্যগ্রহণ এর মানে হচ্ছে পতন। অর্থাৎ হ্রাস পাওয়া, ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়া যাই বলুন না কেন।
  • সূর্য, চাঁদ এবং পৃথিবীর জ্যামিতির উপর নির্ভর করে প্রতি বছর ২ থেকে ৫টি সূর্যগ্রহণ হতে পারে।অবিশ্বাস্য মনে হলেও কিন্তু এটাই সত্যি।

  • কিন্ত প্রতি এক থেকে দু বছরে শুধুমাত্র একবার পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হয়ে থাকে। এ কারনে এই পূর্ণ সূর্যগ্রহনের ব্যাপারটাকে বিরল একটি ঘটনাই বলা চলে।

  • সূর্যগ্রহণ তখনই পূর্নগ্রহনে পরিনত হয় যখন চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ভাবে ঢেকে ফেলে। তখন শুধুমাত্র সৌর করোনাই আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয়। সৌর করোনা হচ্ছে সূর্যের বাইরের বায়ুমন্ডলীয় অংশ। পূর্ন গ্রহনের সময় যেটিকে রিং এর মতো দেখায়।

  • চন্দ্র ও সূর্যের দূরত্বের ৩ শতাংশ এবং চন্দ্র ও পৃথিবীর দূরত্বের ১২ শতাংশের ওপর নির্ভর করে, কখন সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ শুরু হবে। এই দূরত্বের উপরই নির্ভর করে গ্রহণের পর্ব শুরু হয়।

  • আপনি জানেন কি? একটি সূর্যগ্রহনের পুরোপুরি গ্রহনকাল সর্বোচ্চ সারে সাত মিনিট পর্যন্ত হতে পারে।

  • সাধারনত প্রায় একই সূর্যগ্রহণ আবার ৬, ৫৮৫ দিন পরে শুরু হয়ে থাকে। তাই দুটি সূর্যগ্রহণের মধ্যে পার্থক্য থাকে মোট ৬, ৫৮৫ দিনের। যে পরিমাণ দিনের ব্যবধানে এই গ্রহণ হয়, সেই ব্যবধানকে বলা হয় সারোস সাইকেল।

  • একটি পূর্ন সূর্যগ্রহণের সময়, চারপাশের পরিস্থিতি খুব দ্রুত পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। তাপমাত্রা কমে যেতে পারে এবং তৎক্ষণাৎ পুরো এলাকা অন্ধকার হয়ে যেতে পারে।

  • যদি কোন গ্রহ পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় আকাশে অবস্থান করে, তাহলে তাদেরকে আলোর বিন্দু হিসেবে দেখা যাবে। তবে বার্ষিক সূর্যগ্রহণের সময় কোন গ্রহ বা তারা দেখা যাবে না কারণ তখন চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরিভাবে ঢেকে রাখে না।

  • সূর্যগ্রহণের পরিমাণ তাদের দৈর্ঘ্যের মধ্যে ডিফার করে। কারণ পৃথিবী সবসময় সূর্য থেকে একই দূরত্বে থাকে না,  তেমনি চাঁদ সবসময় পৃথিবী থেকে একই দূরত্বে থাকে না।

  • একটি সূর্যগ্রহণ শুধুমাত্র একটি নতুন চাঁদের সময় সংঘটিত হয়। কারণ সূর্যগ্রহণের জন্য চাঁদকে সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে থাকা বাধ্যতামূলক।

  • গ্রহনের উদ্দেশ্যে সূর্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়, তখন চাঁদের গতি ঘণ্টায় প্রায় ২,২৫০ কিলোমিটার বা ১,৩৯৮ মাইল হয়ে থাকে। 

  • ২১ আগস্ট, ২০১৭ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ থেকে দেখা সূর্যগ্রহণটি ছিল ৩৮ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে দৃশ্যমান প্রথম পূর্ণ সূর্যগ্রহণ এবং এর ডাকনাম ছিল “দ্যা গ্রেট আমেরিকান এক্লিপ্স”। এর আগের সূর্যগ্রহনটি দেখা গিয়েছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে। 

  • মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবার সূর্যগ্রহণ দেখবে ২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল। সূর্যকে গ্রাসের সময়কাল তখন ৩ মিনিটের কয়েক সেকেন্ড বেশি পর্যন্ত স্থায়ী হবে বলে জানা গিয়েছে।

  • আরেক ধরনের সূর্যগ্রহণ আছে, যেটি সংকর সূর্যগ্রহণ নামে পরিচিত। পৃথিবীর কোথা থেকে দেখছেন তার উপর নির্ভর করে এটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ এবং বার্ষিক সূর্যগ্রহণ এই দুরকম হয়ে থাকে। এই সূর্যগ্রহণ এর ঘটনাগুলো তুলনামূলকভাবে বিরল।

  • একটু আগে আমরা জেনেছি যে, গ্রীক ভাষায় সূর্যগ্রহনের অর্থ হচ্ছে পতন। তবে চীনা ভাষায় এর অর্থ কিন্তু ভিন্ন। চীনা ভাষায় সূর্যগ্রহণকে বলা হয় 'শিহ', যার মানে হচ্ছে গিয়ে 'খাওয়া'।

  • প্রাগৈতিহাসিক যুগে, মানুষ বিশ্বাস করত যে সূর্যগ্রহণ দেবতাদের কাছ থেকে একটি সতর্কবার্তা এবং এটি তাদের কৃতকর্মের জন্য শাস্তির ইঙ্গিত প্রদান করে। 

  • ১২টি ভিন্ন সূর্যগ্রহণ দেখার প্রচেষ্টায় কানাডিয়ান জ্যোতির্বিজ্ঞানী জে ডব্লিউ ক্যাম্পবেল ৫০ বছর ধরে সারা বিশ্ব ভ্রমণ করেন।কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, প্রতিবারই তিনি সূর্যগ্রহণ এর সময় আকাশে অবস্থান করেছিলেন। 

  • এটা জানা যায় যে, সূর্যগ্রহণের প্রথম রেকর্ডিং টেপ রয়েছে চীনে। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটা সত্য যে, এই রেকর্ডিংগুলো হাড়ের টুকরোর সাহায্যে করা হয়েছিল এবং এদেরকে 'ওরাকল হাড়' বলা হয়। এবং এই রেকর্ডিংটি করা হয়েছিল প্রায় ১০৫০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে।

  • আপনার মনে কখনো কি প্রশ্ন এসেছে যে, উত্তর ও দক্ষিন মেরুতে সূর্যগ্রহনের চিত্রটা কেমন হয়ে থাকে?তাহলে আজ জেনে রাখুন যে, উত্তর বা দক্ষিণ মেরু থেকে, শুধুমাত্র একটি আংশিক সূর্যগ্রহণই দেখা যায়।

  • সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য পৃথিবীর শেষ স্থান অর্থাৎ পৃথিবীতে থেকে শেষ সূর্যগ্রহণটি দেখা যাবে যে অবশিষ্ট স্থানটি থেকে সেই স্থানটির নাম হচ্ছে গুয়াম। হ্যা, গুয়াম আইল্যান্ড। যেটির অবস্থান উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে।