টাইম ট্রাভেলের কিছু রহস্যময় প্রমাণ (১ম পর্ব)
মনে করুন আপনি ২১ বছরের একজন অবিবাহিত যুবক. হঠাৎ ছোট্ট একটি বাচ্চা আপনার সামনে এসে আপনাকে বাবা বলে ডেকে উঠলো, তার সাথে এটাও দেখতে পেলেন একজন মহিলা সেই বাচ্চাটির পাশে দাড়িয়ে আছে এবং সে তাকে আপনার স্ত্রী হিসেবে দাবি করছে। আপনি স্বভাবতই অবাক হয়ে যাবেন এবং আপনি ওই মহিলাটির স্বামী ও বাচ্চাটির বাবা নয় বলে অস্বিকৃতি জানাবেন। তবে হতে পারে ওই মহিলা ও বাচ্চাটি সঠিক বলছে। আপনিই ওই মহিলাটির স্বামী এবং বাচ্চাটির বাবা। আপনি চেচিয়ে বলবেন এটা অসম্ভব। তবে এটা সম্ভব- টাইম ট্রাভেলের মাধ্যমে।
হ্যা টাইম ট্রাভেলের মাধ্যমে এটা সম্ভব। কিন্তু এখনও এই টাইম ট্রাভেলই সম্ভব কিনা তা নিয়ে অনেকের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও বিজ্ঞানীরা তাত্ত্বিকভাবে প্রমান করে দিয়েছেন যে এটা সম্ভব হতে পারে। এ তো গেল তাত্ত্বিক প্রমান কিন্তু বাস্তবিক অর্থে কি আসলেই টাইম ট্রাভেল সম্ভব? এ নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তার আগে আজ আপনাদের দেখাবো টাইম ট্রাভেলের অদ্ভুত ও রহস্যমন্ডিত কিছু সত্য ঘটনা যেগুলো থেকে বুঝতে পারা যায় টাইম ট্রাভেল বাস্তবিক অর্থেই সম্ভব।
আলেক্সান্ডার স্মিথের ২১১৮ সাল ভ্রমণঃ
আলেক্সান্ডার স্মিথ নামের এক ব্যাক্তি দাবি করেন সে 2118 সালের ভবিষ্যত থেকে টাইম ট্রাভেল করে এসেছেন। যিনি নিজেকে মার্কিন গোয়ন্দা সংস্থার সিআইএ-র টাইম ট্রাভেলের গোপন মিশনের অংশ বলে দাবি করেছেন। তিনি আরো বলেন। ১৯৮১ সালে তিনি নাকি টাইম ট্রাভেল করেছিলেন। আর পৌঁছে গিয়েছিলেন ২১১৮ সালে। অর্থাৎ ১৩৭ বছর এগিয়ে। তার দাবি, এটাই নাকি বিশ্বের প্রথম টাইম ট্রাভেলের ঘটনা। তিনি যা বলছেন, তার সত্যতা প্রমাণ করতে ‘ভবিষ্যতের ছবি’ও তিনি ইউটিউবে দেখিয়েছেন। (উপরের ভিডিওতে তা দেখানো হয়েছে)
ছবিটা আসলে একটি শহরের ছবি। ছবিটা বেশ ঝাপসা। দেখে মনে হচ্ছে, অদ্ভুত আকারের লম্বা লম্বা কতগুলো বাড়ি দাঁড়িয়ে। স্মিথের দাবি ছিল, ওগুলোই ভবিষ্যতের বাড়ি। আঁকাবাঁকা আকারের, সবুজ রঙের। তার দাবি, এই বাড়িগুলো বর্তমানের থেকে অনেক উন্নত প্রযুক্তির। কিন্তু ছবিটা ঝাপসা কেন? এটা নাকি টাইম ট্রাভেলের ফল। সে জন্যই ছবিটা পরিষ্কার ওঠেনি। স্মিথ যে ছবিটা দেখিয়েছিলেন, সেটা তার তোলা ওই শহরের আসল ছবি নয়, নিজেই জানিয়েছিলেন এটা। ১৯৮১ সালে টাইম ট্রাভেল করে ফিরে আসার পরই সিআইএ-র গোয়েন্দারা তার কাছ থেকে আসল ছবিটা নিয়ে নেন। তার আগেই অবশ্য তার একটা কপি করে রেখেছিলেন স্মিথ।
চ্যাপলিনের সিনেমায় টাইম ট্রাভেলারের হদিসঃ
টাইম ট্রাভেলের এই ঘটনাটি জানতে আমাদের চলে যেতে হবে বিখ্যাত চার্লি চ্যাপলিনের একটি সিনেমায়। ‘দ্য সার্কাস’ নামের সেই সিনেমাটির সাথে জড়িয়ে গেল টাইম ট্রাভেলের একটি গল্প। ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে আইরিশ চলচ্চিত্র নির্মাতা জর্জ ক্লার্ক ইউটিউবে একটি ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করেন। ভিডিওটি ১৯২৮ সালে চার্লি চ্যাপলিনের ‘দ্য সার্কাস’ চলচ্চিত্রটির লস এঞ্জেলেস প্রিমিয়ারের সময়ে ধারণ করেছিল। ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা যায় একজন পুরুষের পেছনে একজন মহিলা হেটে যাচ্ছে। মহিলার দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন সে তার কানে মুঠোফোন দিয়ে ফোনে কথা বলতে বলতে যাচ্ছে। কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব হতে পারে। যেখানে প্রথম মুঠোফোন আবিষ্কার 1984 সালে সেখানে 1928 সালে ওই মহিলাটি মোবাইল ফোন পেল কোত্থেকে? প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়। অনেকেই এটাকে টাইম ট্রাভেল বলে আখ্যা দিন। ভবিষ্যৎ থেকে টাইম ট্রাভেল করে চ্যার্লি চ্যাপলিনকে দেখতে অতিতে ফিরে আসেন তার এই ভক্ত। এখন পর্যন্ত এটাই ধারনা করা হচ্ছে।
মঙ্গোলিয়ার একটি ঘটনাঃ
মঙ্গোলিয়ার আলতাই পাহাড়ের এক গুহা থেকে ১৫০০ বছরের পুরাতন মমি উদ্ধার করা হয়েছে। মমিটি সাধারণ কোনো মমি নয়। কারণ মমির পায়ে উন্নতমানের একজোড়া জুতা ছিল। জুতাগুলোর মধ্যে তিনটি সাদা স্ট্রাইপ ছিল; দেখতে একেবারে অ্যাডিডাস ব্র্যান্ডের জুতার মতো! এখন প্রশ্ন হলো, ১৫০০ বছর আগে যখন মানুষ জুতার ব্যবহারই শুরু করেনি তখন এই জুতা কোত্থেকে মমির পায়ে এলো? গবেষকদের ধারণা, টাইম ট্রাভেলের ফলেই এরকম সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ ভবিষ্যত থেকে দুর্ভাগা এই মানুষটি অতীতে গিয়ে আর ফিরে আসতে পারেননি।
ফ্লাইট ইন টু দ্য ফিউচারঃ
ঘটনাটি ১৯৩৫ সালের, যখন এয়ার মার্শাল স্যার ভিক্টর গর্ডারড বিমান নিয়ে হকার হার্টে একটি এক্সপেরিমেন্ট করছিলেন। স্কটল্যান্ড থেকে দেশে ফেরার সময় তিনি নিয়মিত রুট ছেড়ে অন্য একটি রুট ধরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রুটটি এডেনবার্গ শহরের কাছাকাছি একটি পরিত্যক্ত এয়ারবেজের উপর দিয়ে গিয়েছিল। এডেনবার্গ শহরের কাছাকাছি আসার পর হঠাৎ করেই বিমানের ইঞ্জিন কাজ করা বন্ধ করে দেয় এবং ক্রমাগত নিচের দিকে নামতে থাকে। তারপর তিনি কোনোমতে বিমানটিকে ওই পরিত্যক্ত এয়ারবেজে ল্যান্ড করান। ল্যান্ড করার পর তিনি যা দেখতে পান তাতে তার চোখ কপালে ওঠে যায়!
কারণ এয়ারবেজটি সম্পূর্ণ চালু অবস্থায় ছিল তখন। সেখানে তিনি অত্যন্ত আধুনিক প্রযুক্তির চারটি বিমানও দেখতে পান। বিমানগুলো হলুদ রঙের। দীর্ঘ কয়েক বছর পর তিনি ওই এয়ারবেজে পুনরায় গিয়েছিলেন এবং তখনও বিমানগুলো ছিল। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, বিমানগুলো তিনি যখন প্রথমবার দেখেন তার বেশ কয়েক বছর পরে বিমানগুলো তৈরি করা হয়েছিল। সুতরাং, স্যার ভিক্টরের সঙ্গে ঘটা এই ঘটনার ব্যাখ্যা টাইম ট্রাভেল ছাড়া আর কী হতে পারে?
অন্য আরেকটি ঘটনাঃ
১৯৩২ সালে জার্মান নিউজপেপার প্রতিবেদক যে. বার্নার্ড হাটন এবং জোয়াকিম ব্রান্ডট নিজেদের ক্যামেরা নিয়ে হ্যামবার্গ শিপইয়ার্ডে যান। সেখানে ফিরে আসার সময় হঠাৎ ড্রোনের শব্দ শোনেন তারা। উপরে তাকিয়ে প্রচুর যুদ্ধজাহাজ দেখতে পান এবং একটু পর হওয়া ভয়ংকর বিস্ফোরণও তাঁদের চোখের সামনে ঘটে। দ্রুত সেই ঘটনার ছবি তুলে রাখেন এই দুজন।
কিন্তু মজার ব্যাপার হল, ফিরে এসে ছবিগুলোতে কিছুই খুঁজে পান না তারা। না কোন দুর্ঘটনা, না অন্যকিছু। পত্রিকা থেকে তাদেরকে মাতাল বলে আখ্যা দেয়।
১৯৪৩ সালের একটি খবরের কাগজে সেই একই সাথে একইভাবে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশিত হয়। আর ছবিগুলো ছিল ঠিক এগারো বছর আগেকার ছবি। ১১ বছর পরে হ্যামবার্গে সত্যিই ৫০০-৬০০ বোমা ফেলা হয়, যাতে করে প্রাণ যায় প্রায় ৪০,০০০ মানুষের।
এরকম আরো কিছু ঘটনা রয়েছে যেগুলো বাস্তবিক অর্থে প্রমান করে যে টাইম ট্রাভেল সম্ভব। তবে এই ঘটনাগুলোকে টাইম ট্রাভেল সম্ভাবনার মানদন্ড হিসেবে দাড় করানো যায় না। টাইম ট্রাভেল আসলেই সম্ভব কিনা... সেটা আলোচনা করা উচিত কিছু যুক্তি ও প্রমানের আলোকে। টাইম ট্রাভেল কিভাবে সম্ভব? ওয়ার্ম হোল অথবা টাইম মেশিন দিয়েই কিভাবে টাইম ট্রাভেলিং করা যাবে। সেসকল প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে আগামী পর্বগুলোতে। ধন্যবাদ।
(এ বিষয়ে আরো ভালোভাবে বুঝতে আপনি উপরের ভিডিওটি দেখতে পারেন)
২য় পর্বঃ টাইম ট্রাভেল কি সম্ভব?
