প্রথম টাইম ট্রাভেলার হিসেবে সময় ভ্রমণ করার আগে যেসব বিষয় জানতে হবে আপনাকে!
টাইম ট্রাভেল রহস্য উন্মোচন করা হয়ে গিয়েছে। মানবজাতি এমন একটি মেশিন তৈরি করেছে যা সময়ের সঙ্গে দ্রুতগতিতে চলতে পারে। যার মাধ্যমে আপনি অতীতে ফিরে যেতে পারেন ও ইতিহাসের যে কোন ঘটনার সাক্ষী হতে পারেন কিংবা উদঘাটন করতে পারেন ভবিষ্যতের যেকোন রহস্যময় ঘটনার।
কিন্তু সেই মেশিনে কেবলমাত্র একজন ব্যক্তি ভ্রমণ করতে পারবেন এবং খুশির খবর হচ্ছে যে, আপনিই হতে চলেছেন সময় ভ্রমণ কারীদের মধ্যে প্রথম সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তি।
তাহলে- রেডি হয়ে যান নতুন এক রোমাঞ্চকর সফরের উদ্দ্যেশ্যে যেটা আগে কখনো এই পৃথিবীতে হয় নি। যে সফরে আমরা ভ্রমন করব ভবিষ্যত কিংবা অতীতের উদ্দেশ্যে। যাতে প্রয়োজন হবে না কোন রাস্তা, বাধায় পড়তে হবে না কোন ট্রাফিকের। তার আগে বলে নিচ্ছি, যারা এখনো আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করেন নি তারা এখনি চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে ফেলুন আর পাশে থাকা বেল আইকনটি বাজিয়ে দিন এরকমই নতুন নতুন ভিডিওর আপডেট পেতে।
বর্তমানে, টাইম ট্রাভেল টেকনোলোজির কোন অস্তিত্ব নেই। তবে এমন অনেক থিওরি বা তত্ত্ব আছে, যেগুলো থেকে জানা যায় যে টাইম ট্রাভেল কীভাবে সম্ভব হতে পারে। আইনস্টাইনের থিওরি অব রিলেটিভিটি অনুসারে, আপনি আলোর গতির সমান গতিপ্রাপ্ত হওয়ার সাথে সাথে বিশ্বের অন্যান্য অংশের তুলনায় আপনার জন্য সময় কমে যাবে।
এই থিওরি থেকে আরো জানা যায় যে, মহাকর্ষ সময়কে বাঁকিয়ে দেয়। মাধ্যাকর্ষণ যত বেশি শক্তিশালী হবে সময় তত ধীরগতির হয়ে যাবে। জেনারেল রিলেটিভিটি, ওয়ার্মহোলের অস্তিত্বের ব্যাপারেও সহমত পোষন করে। স্পেসটাইমের মধ্য দিয়ে এরকম একটি ভ্রমণ কয়েক বিলিয়ন আলোক-বর্ষ পর্যন্ত হতে পারে।
আমরা যদি এমন একটি মেশিন তৈরি করতে পারি যেটা আলোর গতিতে চলতে পারে; যদি এটার প্রবল মহাকর্ষীয় শক্তি নিয়ে ব্ল্যাক হোলের আশে পাশে ঘুরতে পারি কিংবা ওয়ার্ম হোলের মধ্য দিয়ে ভ্রমন করতে পারার টেকনোলজী যদি আমরা পেয়ে যাই। অর্থাৎ যদি কখনো বাস্তবিক অর্থেই টাইম ট্রাভেল করা সম্ভব হয়ে ওঠে, তাহলে আমাদের সময়ের পেছনে ভ্রমন করা উচিত হবে না। কেন সময়ের পেছনে বা অতীতে ভ্রমন করা উচিত হবে না? এবং কেনইবা আমাদের ফাঁকা কোন জায়গায় ভ্রমন করা এবং অবস্থান করা উচিত? সেটা নিয়েই এখন আলোচনা করবো।
১ম ধাপঃ যেকোন কিছুর জন্য প্রস্তুত থাকুন।
যদিও আপনি সময়ের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করছেন, তবুও এটা জানা খুবই কষ্টকর যে, অপর দিকে আপনার জন্য কি অপেক্ষা করছে। যে কোনও ধরনের বিপদের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে আপনাকে। আপনি কখন এবং কোথায় ভ্রমণ করছেন সে সম্পর্কে কতটুকু জানা আছে আপনার? বলুন তো?
বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ প্রতিনিয়তই পরিবর্তন হয়। আপনি টাইম ট্রাভেল করে এমন কোথাও পৌছে গেলেন যে জায়গাটা এতোদিন অক্সিজেনের স্তরগুলিতে আপনি যেভাবে অভ্যস্ত ছিলেন তার চেয়ে অনেক আলাদা, তাহলে আপনার শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে। শ্বাসকষ্ট হয়ে এমনকি আপনি মারাও যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনি আপনার যাত্রার জন্য পোর্টেবল অক্সিজেন কনসেনট্রেটর সাথে করে নিয়ে যেতে পারেন।
আর একটি জিনিস যেটা আপনি কখনই চাইবেন না। সেটা হচ্ছে রোগ এবং অসুস্থতা। আপনি সেই সময়ের মধ্যে প্রচুর নতুন বিদেশী ভাইরাসের সংস্পর্শে আসতে পারেন। কোনো রোগে আক্রান্ত হওয়া আপনার জন্য যথেষ্ট খারাপ হতে পারে।
এমন পরিস্থতিতে, প্রথমেই জেনে নিন আপনি কোন কোন রোগের মুখোমুখি হতে পারেন। সে বিষয়ে আপনার কি রকম সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত তা সম্পর্কে জানুন। এবং আপনি যে অসুস্থতার মুখোমুখি হতে পারেন, সে সম্পর্কে আপনি যদি সত্যিই সতর্ক থাকতে চান, তবে অবশ্যই একটি স্যুট পড়ে নিন।
না, এই স্যুটটি আপনি কোন কাজ করার জন্য পড়ছেন না। নাতো আপনি কোন ইন্টারভিউ এ অংশগ্রহনের জন্য টাইম ট্রাভেলিং করছেন । একটি হাজমত স্যুট আপনাকে বায়ুজনিত যেকোনো রোগ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে। ঠিক আছে, আপনি স্যুট ব্যুট পড়ে নিয়ে টাইম মেশিন স্টার্ট করলেন। আচ্ছা, পরের স্টেপে যাওয়ার আগে এমনকি কিছু আছে যেটা করা আপনার একদমই উচিত নয়?
২য় ধাপঃ সময়ের পেছনে ভ্রমণ করবেন না।
আমি জানি, লক্ষ লক্ষ বছর আগের বিলুপ্ত প্রাণী ডাইনোসর গুলোকে দেখতে কিংবা আপনার অতীতের ভুলগুলো সংশোধন করার জন্য আপনি সময়ের পেছনে ভ্রমন করতে চাইবেন। কিন্তু এটি করার মাধ্যমে আপনি টাইম প্যারাডক্স তৈরি করে ফেলতে পারেন। প্যারাডক্স কি এবং অতীতে ভ্রমনের মাধ্যমে কিভাবে প্যারাডক্স তৈরী হয় তা জানতে আই বাটনে দেওয়া টাইম ট্রাভেলের এই ভিডিওটি দেখতে পারেন।
অতীত পরিবর্তন করা আমাদের বর্তমান সময়রেখাকে মারাত্মকভাবে পরিবর্তন করে দিতে পারে। এমনকি আপনি অতীতে গিয়ে শুধু বসে থাকলেন, কিছুই করলেন না। তবুও আপনার বর্তমান নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন হয়ে যাবে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে এবং ঘটনা প্রবাহের শৃঙ্খলকে একটু নাড়িয়ে দিলে আপনার অতীত আত্মীয়দের উপর বিশাল প্রভাব পড়তে পারে। এটির কারনে আপনি আপনার দাদা দাদি, মা বাবা কেও হাড়াতে পারেন। এবং ফলস্বরূপ, আপনার জন্ম হওয়াই আটকে যেতে পারে। দেখা যেতে পারে আপনার জন্মই হয়নি। আপনার অস্তিত্বই অস্তিত্বহীন হয়ে গিয়েছে।
তবে, সময়ের সামনে ভ্রমণ করা আপনার পক্ষে সম্ভব হতে পারে। যদি আমরা খেয়াল করি তাহলে দেখতে পাবো যে, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থাকা নভোচারীরা এখন ভবিষ্যতে বসবাস করছেন। কারণ তারা ক্রমাগত ৮ কিমি / সেকেন্ডে বা প্রতি সেকেন্ডে ৫ মাইল গতিতে চলেছে। টাইম ডায়ালাইশনের কারণে, নভোচারীরা আমাদের তুলনায় প্রায় ১৩ মিলি সেকেন্ড ভবিষ্যতে অবস্থান করছে। আমি জানি, অক্সিজেন নিয়ে এবং হাজমত স্যুট পরে আপনি একদম রেডি। অতীতে ভ্রমণ করবেন না, সেটাও আপনি মেনে নিয়েছেন। দেখে মনে হচ্ছে আপনি আমাদের সাথে ভবিষ্যতে ভ্রমণে যেতে একেবারে প্রস্তুত হয়ে আছেন।
৩য় ধাপঃ সময় যাত্রার পেছনের প্রতিবন্ধকতাগুলো
এই মুহূর্তে আপনাকে কখন এবং কোথায় টাইম ট্রাভেল করছেন তা জেনে নেওয়াটা কিন্তু খুবই জরুরী। আপনি কি একই জায়গাতে ভ্রমন শেষ করতে চান? নাকি সম্পূর্ণ ভিন্ন কোন জায়গায়?
আপনি কি কোন ওয়ার্মহোলের মধ্য দিয়ে ভ্রমন করবেন?, নাকি অন্য কোন সময়ে নিজেকে পুনরায় দৃশ্যমান করতে চাচ্ছেন?
যখন আপনি খালি কোন জায়গা বা উন্মুক্ত কোন জায়গায় অবস্থান করতে চাইবেন। তখন আপনার দেহ পুনর্গঠিত হতে থাকবে, আপনি যে জায়গায় পুনর্গঠিত হবেন ঠিক সেখানে কোন ব্যাক্তি বা বস্তু থেকে থাকলে আপনি তার সাথে মিশে যেতে পারেন । যেকোন বস্তু বা অন্য কোন মানুষের দেহ আপনার দেহের সাথে আটকে যেতে পারে।
টাইম ট্রাভেলের সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে আপনি একটি ঘেরের ভেতরে থাকবেন যেটি আপনাকে পরিবেশের যেকোন ত্রুটিপূর্ণ অবস্থা থেকে রক্ষা করবে। এটা করলে আপনি সময় ভ্রমন পরবর্তী আপনার যেকোন উদ্ভট রূপ ধারন হওয়া থেকে বেচে যাবেন।
মনে হয়, আপনি আপনার অভিযানের সকল পরিকল্পনা করে ফেলেছেন। মেশিনটি পুনরায় চালু হয়েছে এবং একটি ফ্লাশের মতো উজ্জ্বল আলো দেখার পর আপনি ভবিষ্যতে পৌছে গেলেন। কিন্তু কিছু একটা ভুল হয়েছে, আপনার চারপাশের সমস্ত কিছু বদলে গিয়েছে । আশেপাশে কেউ নেই। নেই কোন প্রাণ।
আপনার টাইম মেশিন এখন ভবিষ্যতে আছে। সেখানে গিয়ে এটি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আর পিছনে ফেরার উপায় নেই। আপনি ভবিষ্যতে আটকে গিয়েছেন এবং আপনিই হচ্ছেন পৃথিবীর শেষ ব্যক্তি।
