হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী ও একজন জাতির জনক (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান)
১৯৪২ সালে এনট্র্যান্স পাশ করার পর কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে আইন পড়ার জন্য ভর্তি হন। ভারত বিভাগের সময় কলকাতায় হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা হলে শেখ মুজিব অনেক ব্যাথিত হন এবং দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের জন্য রাজনৈতিক তৎপরতায় শামিল হন। ভারত বিভক্ত হলে বাংলা চিরতরে দুই ভাগ হয়ে যায় তখন শেখ মুজিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং মুসলিম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন।১৯৪৮ সালে জিন্নাহ যখন ঢাকায় বাঙ্গালীদের সামনেই বাংলা ভাষাকে কেড়ে নেয়ার কথা বললেন তখনই ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। সংগ্রাম পরিষদ বাংলা ভাষা নিয়ে মুসলিম লীগের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ১১ মার্চ সাধারণ ধর্মঘট আহ্বান করে। ১১ মার্চ বাংলা ভাষার দাবিতে ধর্মঘট পালনকালে বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার হন। অসাম্প্রদায়িক শেখ মুজিব বাংলা ভাষার চেতনায় অনুপ্রাণিত হন। এ সময় তিনি সমাজতন্ত্রের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার মানের উন্নয়নের জন্য এটিকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে মনে করতে থাকেন।তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের দাবি-দাওয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে ধর্মঘট ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধু আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হন।
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয় এবং জেলে থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু এ দলের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৫২ সাল ৷ কারাবন্দী শেখ মুজিব , ভাষার জন্য আন্দোলন-সংগ্রামে দেশ তখন উত্তপ্ত ৷ ২১শে ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ঘোষণা করা হলো 'ভাষা দিবস' হিসেবে ৷ নুরুল আমীন আকস্মিক ভাবে ১৪৪ ধারা জারি করলে গভীর রাতে কিছু ছাত্রনেতা ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত নেন ৷ শেখ মুজিব কারাগার থেকে এই সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানান এবং মহিউদ্দিন আহমদকে সঙ্গে নিয়ে অনশন অব্যাহত রাখেন ৷২১ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর শহীদ হন ৷ একটানা ১৩ দিন অনশন করার পর ২৭ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবকে ছেড়ে দেওয়া হয় ৷ জেল থেকে বেড়িয়েই মাউলানা ভাষানীর স্বীয় ক্ষমতাবলে দলটির অস্থায়ী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।পাকিস্তান গণপরিষদের সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে ১৪ নভেম্বর দলের বিশেষ কাউন্সিল ডাকা হয় এবং এতে যুক্তফ্রন্ট গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়।১৯৫৪সালে যখন সাধারণ নির্বাচন হয় তখন যুক্তফ্রন্ট বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়। বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক সরকারের কৃষি ও বন মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। বাঙ্গালী জাতিয়তাবাদি চেতনায় বিশ্বাসী মুজিব মনে করতেন বাংলার হিন্দু ,মুসলিম,বুদ্ধ,খ্রীষ্টান সকলেই এই বাংলায় মিলেমিশে পশ্চিম পাকিস্তানীদের দখলদারীত্ব থেকে এই বাংলার মাটিকে মুক্ত করবে । এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৫সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী মুসলিম লীগের বিশেষ অধিবেশনে দলের নাম থেকে "মুসলিম" শব্দটি বাদ দেয়া হয় ।
১৯৫৮ সালে পাকিস্তান ব্যাপী রাজনীতির চরম অস্থিরতায় হঠাৎ ইস্কান্দার মির্জা সামরিক আইন জারি করে তখন সকল ধরনের রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ ,সংবিধান বাতিল , মুজিব সহ কয়েক হাজার নেতা কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিছুদিন পর ইস্কান্দার মির্জাকে ক্ষমতাচুত্য করে আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করেন। দেশটাতে শুরু হয় এক অরাজকতা ,মৌলিক গনতন্ত্র নামের এক ভণ্ডামি করে আইয়ুব খান। ১৪ মাস পরে মুক্তি পাওয়া মুজিব জেলগেইট থেকে আবার পুনরায় গ্রেপ্তার হন ।
১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর জাতীয় সম্মেলনে লাহোরে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ করেন ৷ এই প্রস্তাবিত ৬ দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ৷ এবছর প্রথম তিন মাসে শেখ মুজিব ৮ বার গ্রেফতার হন ৷
৬ দফা প্রকাশ হওয়ায় বাঙালিদের হৃদয়ে আশার নতুন আলো দেখা দেয় ৷ ১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ১নং বিবাদী হিসেবে শেখ মুজিবকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের গেট থেকে গ্রেফতার করে । আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলনের প্রস্তুতি গৃহীত হয়। এই সংগ্রাম এক সময় গণ আন্দোলনে রূপ নেয়। এই গণ আন্দোলনই ঊনসত্তরের গণ অভ্যুত্থান নামে পরিচিত। বিরামহীন প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ আন্দোলন, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ, কারফিউ, পুলিশের গুলিবর্ষণ এবং বেশ কিছু হতাহতের পর আন্দোলন চরম রূপ ধারণ করলে পাকিস্তান সরকার ছাড় দিতে বাধ্য হয়। এই মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া হয় । এর সাথে শেখ মুজিবসহ অভিযুক্ত সকলকে মুক্তি দেয়া হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি তারিখে শেখ মুজিবের সম্মানে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার এই সম্মেলনে শেখ মুজিবকে "বঙ্গবন্ধু" উপাধি প্রদান করা হয়েছিল ।
১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর মুজিব ঘোষণা করেন যে এখন থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে "বাংলাদেশ" নামে অভিহিত করা হবে । সারাজীবন বাংলাকে আত্বদানকারী মুজিব ২৩ বছরের পাকিস্থানী শাসনামলে ১২ বছর শুধু জেলেই কাটিয়েছেন ।বাকি পুরো সময়টাতে পাকিস্থানী শাসকের করা নজরদারিতে ছিলেন বলে পাকিস্থানকে নয়, কারাগারকেই তার দেশ মনে হয়েছে। তার সাথে পাকিস্থানী শোষকরা বাংলাকে অরাজকতায় জিম্মি করে রেখেছে। তখন বাংলার প্রতিটা প্রাণ মুক্তি চেয়েছিল এবং শেখ মুজিব ছিলেন একমাত্র ভরসা । অনিবার্য কারণ বসত আইয়ুব সরকারের পতন হলে ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় আসেন।
১৯৭০ সালে পাকিস্থানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রাদেশিক আইনসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আওয়ামী লীগ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন লাভ করে।সামরিকজান্তা ইয়াহিয়া খান কখনই চাইত না বাঙ্গালি জাতীয়তা বাদিরা ক্ষমতায় আসুক তাই ক্ষমতা না ছাড়ার টালবাহানা শুরু করে । এদিকে ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে ১০ লক্ষ জনতার উপস্থিতিতে বাঙ্গালি জাতির উদ্দেশ্যে শেখ মুজিব ভাষনে বলেন,
~যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকুন।
রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো।
এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ।
এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম।
সংকট নিরসনের নামে ভুট্টো সাহেব ও ইয়াহিয়া খান ঢাকায় আসেন এবং পৃথিবীর ইতিহাসে এক নিকৃষ্ট চক্রান্ত চলতে থাকে। পাকিস্তানি সেনা রাজনৈতিক ও জনগনের অসন্তোষ দমনে ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চলাইট নামে ইতিহাসের ন্যাক্ক্যারজনক গনহত্যা শুরু করে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন । আমি বাংলাদেশের মানুষকে আহ্বান জানাই, আপনারা যেখানেই থাকুন, আপনাদের সর্বস্ব দিয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মাটি থেকে সর্বশেষ পাকিস্তানি সৈন্যটিকে উৎখাত করা এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আপনাদের যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে হবে।
২৫ মার্চ রাত ১২ টার পর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাসভবন থেকে পাকিস্থানী সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর, ৩০ লক্ষ বাঙ্গালীর আত্বদানের বিনিময়ে অবশেষে আসে বিজয়।১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ-ভারত মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পন করে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী। পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় বাংলাদেশ নামের নতুন একটি দেশ। ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ শেখ মুজিব পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ১৯৭২-এর ১২ই জানুয়ারি তিনি সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মতাদর্শগতভাবে তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী ছিলেন, যা সম্মিলিতভাবে মুজিববাদ নামে পরিচিত। জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে ভিত্তি করে সংবিধান প্রণয়ন এবং সে অনুযায়ী রাষ্ট্র চালনার চেষ্টা সত্ত্বেও তীব্র দারিদ্র্য, বেকারত্ব, সর্বব্যাপী অরাজকতা এবং সেই সাথে ব্যাপক দুর্নীতি মোকাবেলায় তিনি কঠিন সময় অতিবাহিত করেন। ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা দমনের লক্ষ্যে ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি এক দলীয় রাজনীতি ঘোষণা করেন। এর সাত মাস পরে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তারিখে একদল বিপথগামী সামরিক কর্মকর্তার হাতে তিনি সপরিবারে নিহত হন।
জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে প্রথম সরকারের মাত্র সাড়ে তিন বছরের সংক্ষিপ্ত সময়টুকু নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। শূণ্য থেকে শুরু করে তাঁর সরকারকে যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশের অগণিত সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ সকল ক্ষেত্রে রাষ্ট্র এবং জাতিগঠন কার্যক্রম শুরু হয়। আইন শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন, যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃনির্মাণ, মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধীদের জনরোষ থেকে রক্ষা করা এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো লক্ষ লক্ষ ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য খাদ্য সংগ্রহ করা এবং আরো অনেক সমস্যার সমাধান তাঁর সরকারের সামনে সুবিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।শেখ মুজিব একটি নূতন শাসনতন্ত্র প্রণয়নে কখনই দ্বিধাগ্রস্ত হননি। পররাষ্ট্রনীতির পথনির্দেশনা নির্ধারণ করেন : ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং কারো প্রতি বিদ্বেষ নয়।’ প্রকৃতপক্ষে মুজিব সরকার গুরুত্বপূর্ণ সকল ক্ষেত্রে মৌলিক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সূচনা করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের জাতীয় ইতিহাসে সবচেয়ে খ্যাতিমান, সবচেয়ে স্মরণীয় ও বরণীয় নাম। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে তিনি স্বীকৃত হয়েছেন। বঙ্গবন্ধু আর বাংলাদেশ অভিন্ন সূত্রে প্রথিত। বঙ্গবন্ধু না জন্মালে বাংলাদেশ নামের কোনো দেশ হতো কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এই অর্থেই বলা হয়, বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ মানে বঙ্গবন্ধু। ব্যাক্তিনাম ও দেশনাম এভাবে একাকার হয়ে যাওয়ার নজির বিশ্বে বিরল। তিনি ছিলেন জাতীয় জাগরণের তুর্যবাদক। জাতিকে উজ্জীবিত ও প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে তার অবদান বলতে গেলে একক। তিনি ভাষাভিত্তিক ও জাতিভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে আমাদের অশেষ ঋণে আবদ্ধ করে গেছেন। গভীর শ্রদ্ধায় ও কৃতজ্ঞতায় আমরা তাকে স্মরণ করি।
মুজিব আমার মুক্তি ,মুজিব চিরঞ্জীব,
মুজিব বাংলার শক্তি, মুজিব উন্নত শির।
লেখাঃ ইমদাদ মোহাম্মদ
