পর্ব-৮ | বিজয়ের দিনপঞ্জী (৮ ডিসেম্বর ১৯৭১)
![]() |
আজ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বরে শত্রু মুক্ত হয় চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, মৌলভীবাজার, পটুয়াখালী, বরিশাল ও মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা। এদিন সদ্য স্বাধীন হওয়া এসব স্থানগুলোতে স্বাধীন বাংলাদেশের রক্তিম পতাকা উড়িয়ে বিজয় উদযাপন করেন মুক্তিযোদ্ধারা। নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে আজ নতুন প্রজন্মও স্মরণ করলো সেই সব বীর সন্তানদের।
৮ ডিসেম্বর চাঁদপুর শত্রুমুক্ত হয়। এদিন পাকবাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের ক্রমাগত হামলা থেকে বাঁচতে পালিয়ে যায় চাঁদপুর থেকে। লাকসাম ও মুদাফফরগঞ্জে পাকবাহিনী পরাজিত হলে ৭ ডিসেম্বর চাঁদপুরে সর্বশেষ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ভারতের মাউন্টেন ব্রিগেড ও ইস্টার্ন সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা ৬ ডিসেম্বর হাজীগঞ্জ হয়ে চাঁদপুরে আসতে থাকলে পাকবাহিনী তাদের প্রতিরোধ করে। প্রতিরোধের জবাব দিতে যৌথ আক্রমণ চালায় যৌথবাহিনী। যুদ্ধে পরাজয় নিশ্চিত দেখে পাক সেনাবাহিনীর ৩৯তম অস্থায়ী ডিভিশনের কমান্ডিং অফিসার মেজর জেনারেল রহিম খান স্বসৈন্যে চাঁদপুর থেকে পালিয়ে যান। হাজীগঞ্জ ও বড় স্টেশন এলাকায় প্রচন্ড যুদ্ধের পর ৮ ডিসেম্বর চাঁদপুর মুক্ত হয়।
১৯৭১ সালের এই দিনে সম্পূর্ণ হানাদারমুক্ত হয় মৌলভীবাজার জেলা। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ হামলার মুখে ৫ ডিসেম্বর থেকেই ভেঙে পড়তে শুরু করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রতিরক্ষা শক্তি। উপায়ান্তর না পেয়ে সিলেটের দিকে পালাতে থাকে পাকসেনারা। এ সময় এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে হত্যা করে অসংখ্য নিরীহ মানুষকে। এরপর পাকিস্তানী বাহিনী অবস্থান নেয় শেরপুরে। কিন্তু যৌথ বাহিনী সেখান থেকেও তাদের বিতাড়িত করে। ফলে এদিন পুরোপুরি শত্রুমুক্ত হয় মৌলভীবাজার। আকাশে ওড়ানো হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।
ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই মুক্ত হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পূর্বাঞ্চল আখাউড়া। আখাউড়া মুক্ত করার পর মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী একত্রে অগ্রসর হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দিকে। আখাউড়া থেকে কোন প্রতিরোধ ছাড়াই যৌথবাহিনী ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে পৌঁছে যায়। ৮ ডিসেম্বর সকাল বেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়।
একাত্তরের ৭ ডিসেম্বর রাতের বেলায় তিন দিক থেকে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী কুমিল্লা বিমান বন্দরে অবস্থানরত হানাদার বাহিনীর ২২তম বেলুচ রেজিমেন্টের ঘাঁটিতে সাঁড়াশি হামলা চালায় । মুক্তিসেনারা উপর্যুপরি মর্টার আর্টিলারি আক্রমণ চালালে শেষ রাতের দিকে পাকসেনারা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। সারারাত ব্যাপী এ যুদ্ধে শহীদ হন ২৬ জন মুক্তিযোদ্ধা। ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লার আকাশে নতুন ভোর নিয়ে উঠে রক্তিম সূর্য, সর্বস্তরের মানুষের উল্লাস ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে উঠে স্বাধীন কুমিল্লা।
বরিশাল মুক্ত হয় ৮ ডিসেম্বরে। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিভীষিকা পেরিয়ে ১৯৭১ সালের এদিনে শত্রুমুক্ত হয় বরিশাল অঞ্চল।অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধারা বরিশালকে হানাদারমুক্ত করে বিজয়ের পতাকা ওড়ান ।
এদিন পটুয়াখালীর আাকশেও ওড়ানো হয় বিজয়ের নিশান। এর পূর্বেই পরাজয়ের ভয়ে ভীত হয়ে পটুয়াখালী ছেড়ে চলে যায় পাকসৈন্যরা। মুক্তিকামী জনতার মাঝে দেখা দেয় নতুন প্রাণচাঞ্চল্য।
এছাড়া ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বরে মুক্তিযোদ্ধারা এক সম্মুখযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করে। স্বাধীনতা অর্জন করে মাদারীপুরকে ।
